আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ, সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত বৈঠকে বিজেপি নেতা রাম মাধবের সঙ্গে বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। আজ বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও সম্পর্কের যে সুসংহত অবস্থান বিরাজ করছে তা উভয় দেশের অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ছিটমহল সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতা ও আন্তরিক সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মজবুত সম্পর্ক আরো জোরদার করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত রোববার ভারতের কেরালার পুত্তিঙ্গাল মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা পৌঁছে দেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের কাছে।
এদিকে আজ বুধবার সকালে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগত প্রকাশ নাড্ডার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় দুই মন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশে নির্মাণাধীন ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’কে ভবিষ্যতে একটি বিশ্বমানের আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহায়তা চান মোহাম্মদ নাসিম।
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগত প্রকাশ বাংলাদেশে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ সৃষ্টিতে ভারতের বিশ্ববিখ্যাত ‘সফদরজং হাসপাতাল’-এ বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ফসল কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সাফল্যের প্রশংসা করেন জগত প্রকাশ নাড্ডা বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘এ ধরনের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ গতি এসেছে যা কাজে লাগিয়ে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার কাজটি ত্বরান্বিত করতে চায় বাংলাদেশ।’ তিনি আরো বলেন, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসার যথাযথ বিকাশের জন্য ভারতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
বৈঠকে মোহাম্মদ নাসিমের আহ্বানে এই মাসের শেষে ঢাকায় ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আয়োজনের সম্মতি দেন জগত প্রকাশ নাড্ডা। এই সভায় অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবেন বলে তিনি জানান।
আগামী জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগ্রহের সঙ্গে ঢাকায় আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ভানু প্রতাপ শর্মা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক কনফারেন্স’-এ যোগদান শেষে ঢাকা ফিরে আসেন। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায়সহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি গত ৮ এপ্রিল দিল্লি যান।
ওএফ





