প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জন্য ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকাসহ মোট বরাদ্দ হবে ১ লাখ ৯৯৬ কোটি টাকা।

এডিপিতে মানবসম্পদ, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আমরা আঞ্চলিক সমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুণগত ব্যয়ের বিষয়ে প্রাধান্য দিয়েছি।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাত) ২২ শতাংশ, সার্বিক কৃষি খাতে (কৃষি, পল্লি উন্নয়ন ও পল্লি ইনস্টিটিউশন, পানিসম্পদ ও সংশিষ্ট অন্যান্য খাতে) ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ, যোগাযোগ (সড়ক, রেল, সেতু এবং যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।

অনুমোদিত এডিপি বরাদ্দের বাইরে ৬২ হাজার ৫শ কোটি টাকা স্থানীয় উৎস থেকে আসবে। এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৩৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা।

এডিপিতে ১৭টি প্রধান সেক্টরের অধীন প্রকল্পগুলো ৮৯ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দশটি উন্নয়ন সহায়তা সেক্টরে ২ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এডিপিতে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন এডিপিতে ৮৫৪টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৩২টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পসহ প্রায় ১ হাজার ১২৩টি প্রকল্প রয়েছে।

নতুন এডিপিতে কোনো বরাদ্দ ছাড়াই প্রায় ৮৫৭ অননুমোদিত প্রকল্প রাখা হয়েছে। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে অর্থ পাওয়া সাপেক্ষে বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৬৮টি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) উদ্যোগের অধীনে বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪০টি প্রকল্প রাখা হয়েছে। ২৮১ বিনিয়োগ প্রকল্প, ৪১ কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং দুটি জেডিসিএফ প্রকল্পসহ আগামী অর্থবছরের এডিপিতে সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৩২৪ প্রকল্প রাখা হয়েছে।

নতুন এডিপিতে চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন না হওয়া প্রায় ২০৯ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন এডিপিতে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯২১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে সেতু বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে ১৬ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৭ শতাংশ।

অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে ৫ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে ৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, শিক্ষা খাতে ৪ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগে ১৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, কৃষিতে ১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা, পানিসম্পদ খাতে ৩ হাজার ৬২ কোটি টাকা, রেলওয়ে ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা এবং সড়ক, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৫ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কেএইচ