মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারিত হয়ে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী ৮ নারী ও শিশু দীর্ঘ ৫ বছর পর দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে শুক্রবার সন্ধায় বেনাপোল স্থলপথে দেশে ফেরে তারা।
ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফেরত আসা নারী-শিশুরা হলেন, খুলনার হাওয়া বেগম (৩৭),সাতক্ষীরার রেবা রানী (৩০), উষা রানী সরকার (২৫),সুজাতা সরকার (২৫), বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ফারুকের ছেলে রিয়াজুল শেখ (১৫), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সামসুল হকের ছেলে হাবিবুর রহমান (১৬), নরসিংদীর কালিবাজার এলাকার হরিস খানের ছেলে কৃষ্ণা খান (১৫) ও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বুনিয়ার ছেলে সবুজ সুজন (১৪)।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম খান জানান, দালালের খপ্পড়ে পড়ে ২থেকে ছয় বছর আগে দেশের বিভিন্ন সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে যায় তারা।
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। আদালত বিভিন্ন মেয়াদে তাদের কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। ভারতের এনজিও সংস্থা কিশোলয় ও লিগ্যাল এইডস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে।
পরবর্তীতে দু'দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত আসা নারী-শিশুদের সন্ধায় পোর্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির যশোর জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত আসা নারী-শিশুদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের কেউ যদি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে তাদের আইনগত সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেডআই





