দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধকে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ সরকারের নিকট আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গত ৫ নভেম্বর ২০১৪ প্রেরিত এক পত্রে টিআইবি দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্কের নেতাদের সাথে একত্রে কাজ করতে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানায়।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কর্তৃক স্বাক্ষরিত উক্ত পত্রের অনুলিপিতে বলা হয়েছে, সার্ক সদস্যভুক্ত দেশসমূহে দুর্নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা।
পত্রে আরো বলা হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার লক্ষ্যে কার্যকর আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করা, বিশেষ করে অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্থ ও সম্পদ পাচার সহ সকল প্রকার আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদের ১৩ নং অনুচ্ছেদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রয়াসের সম্পূরক ভূমিকা পালনে সার্কভুক্ত দেশ সমূহের সাধারণ জনগোষ্ঠী, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের অবাধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
টিআইবি’র উদ্যোগে অনুরূপ একটি আবেদন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্র/সরকার প্রধানের কাছে প্রেরিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, টিআইবি’র উদ্যোগের প্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ফলে ১৪তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণার ২৭তম অনুচ্ছেদে দুর্নীতিকে এ অঞ্চলের দেশ সমূহের জন্য ঘোরতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং সদস্য দেশসমূহ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় অভিজ্ঞতার বিনিময়ে তথ্য আদান প্রদানে সম্মত হয়েছিল।
কেএইচ/এসএইচ





