যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের বাড়ি ‘গুডস হিলে’ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

বুধবার (৩০ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে এক থেকে দেড়শ ছাত্রলীগ কর্মী এ হামলা চালায়।

এসময় বিভিন্ন মডেলের ৮/৯ টি গাড়ি এবং বাসার দরজা জনালাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।

ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় বাসার নিরাপত্তাকর্মী মুজিবুর রহমান ( ৬৫), নুরুল আফছার সহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

গুডস হিলের গেইটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী মুজিবর রহমান জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে এক থেকে দেড়শ ছাত্রলীগ কর্মী ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। এসময় গেইট পোস্টে থাকা টেলিফোন এবং মুজিবুরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলে। বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে।

এরপর তারা সিঁড়ি বেয়ে উপরে গিয়ে বাসার সামনে পার্কিং করে রাখা বিভিন্ন মডেলের ৮/৯ টি গাড়ি, বাসার দরজা-জানালা, মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। হামলার সময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা বাসার নিরাপত্তায় থাকা নুরুল আফছার, ইকরাম ও জাহেদকেও মারধর করে।

চট্টগামে

নুরুল আফছার জানান, এক দেড়শ ছাত্রলীগ কর্মী লাঠি, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালায়। এসময় তারা বেশ কিছু মূল্যবান কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়।

নিরাপত্তাকর্মী জাহেদ জানান, ঘটনার সময় বাসার গেইটের সামনে চকবজার থানা ও কোতোয়ালী থানার টহল পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলেও তারা এগিয়ে আসেননি।

পরে ফোনে কোতোয়ালী থানাকে ঘটনা জানালেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১০টা নাগাদ পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাকা চৌধুরীর বাড়ি ‘গুডস হিলে’ হামলা-ভাংচুর

ঘটনাস্থলে টহলে ডিউটিতে থাকা কোতোয়ালী থানার এসআই বিকাশ চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমি চকবাজার থানার ওসির কাছে এ খবর শুনলেও কোতোয়ালী থানা থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর গণি বেকারি মোড় সংলগ্ন গুডস হিল পাহাড়ের ওপর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের বাড়ি। সেখানে তার ভাই বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ চার ভাইয়ের পরিবারের বসবাস।

কেবি