লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতাসহ ৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া দেওয়ানী বাজার গ্রামে এ সংঘর্ষেরর ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- উপজেলার বারঘড়িয়া দেওয়ানী বাজার এলাকার মৃত ফজর রহমানের ছেলে উপজেলা যুবলীগের কার্যকরী সদস্য তমিজার রহমান (৪২), একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক আব্দুস সালাম (৩২), একই গ্রামের তহদ্দিন ছেলে শিন্টু মিয়া (৫২), মন্টু মিয়ার ছেলে মশিউর রহমান (২৪), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাফর আলী (৬২), তার ছেলে মজিবর রহমান (৪০), মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে সাবেক সেনা সদস্য আজহার আলী মন্টু (৫২) ও মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (১৪)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বারঘড়িয়া দেওয়ানী বাজার গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে দিনমজুর মন্টু মিয়ার বসত বাড়ির জমি দীর্ঘ দিন ধরে দখলের চেষ্টা করছে প্রভাবশালী জাফরের ছেলে মজিবর রহমান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধিন রয়েছে। স্থানীয়দের ডাকে পুলিশের উপস্থিতিতে বিষয়টি চুড়ান্ত নিস্পত্তির সিদ্ধান্ত হলে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মজিবর গংরা।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে দলবল নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করে দিনমজুর মন্টু মিয়ার বাড়ির লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে বাড়িটি ভেঙ্গে দেয় মজিবর গংরা। পরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও কীটনাশক স্প্রে করে দেশি অস্ত্রে এলোপাতারী মারপিট করে। এতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাসহ উভয় পক্ষের ৮ জন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে আহতদের আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা আশংকাজনক অবস্থায় চারজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেন আহত যুবলীগ নেতা তমিজার রহমান।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্বজিৎ কুন্ড বলেন, ৩ জন আশংকাজনকসহ ৪ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। বাকী ৪ জনের চিকিৎসা চলছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করাসহ আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জমি বিরোধের বিষয়টি চুড়ান্ত নিস্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
নুরনবী/এমবি





