শহুরে কোলাহল ছেড়ে ঈদ ও পূজার আনন্দ উপভোগ করতে ঢাকার উপকন্ঠে খুলনার খানজাহান আলী সেতুতে (রূপসা সেতু) ভিড় করছেন বিনোদনপ্রেমীরা।

ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যান্ত্রিক জীবনকে পাশ কাটিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই এখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ।

হেসে-খেলে মাতিয়ে তুলছেন রূপসা নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটিকে। সেতুর দু’পাড়ে দর্শণার্থীদের পদচারণা।

এ সেতুটির নাম খানজাহান আলী সেতু হলেও রূপসা সেতু হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত।

খুলনা শহরের রূপসা থেকে ব্রিজের দূরত্ব ৪.৮০ কি.মি। এই সেতুকে খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার বলা যায়। কারণ, এই সেতু খুলনার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর বিশেষত মংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সেতুটিতে পথচারী ও অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য বিশেষ লেন রয়েছে।

সেতুটির মাঝে দাঁড়ালেই মনে হবে কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি কিংবা উন্নত বিশ্বের কোন সেতুতে দাঁড়িয়ে আছি।

বর্তমানে এটি খুলনার একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। রাতে সেতুর ওপর থেকে খুলনা শহরকে অপূর্ব সুন্দর মনে হয়। উৎসবের দিনগুলোতে এই সেতুতে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সীরা ভিড় করেন ও আনন্দ করেন। বিশেষ দিন ছাড়াও প্রতিদিন প্রচুর দর্শণার্থী সেতুটি পরিদর্শন করতে আসেন।

ব্রিজে আগত বিনোদনপ্রেমীদের রসনা মেটাতে আশপাশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ফাস্টফুড ও খাবারের দোকান। ইতোমধ্যে ব্রিজকে ঘিরে নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে রূপসার কুদির বটতলা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বেশ কয়েকটি পাটের মিল, মাছ প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এবং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ড ও বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভূতের আড্ডা নামের একটি পার্ক এবং র্যাব-৬ এর হেডকোয়ার্টার।

আগত দর্শণার্থীরা জানান, ক্লান্ত জীবনকে একটু বিশ্রাম দিতে ঈদের পরদিনই তারা এখানে এসেছেন।

তারা বলেন, খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ পার্ক শিশু-কিশোরসহ নগরবাসীর বিনোদনের বিপরীতে গো-চারণ, মাদকসেবন, বখাদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। আবার দু-একটি পার্ক ব্যবহার উপযোগী থাকলেও তাতে দেখার মতো কিছু নেই। সারা বছর ব্যস্ততায় দম ফেলার সময় পাওয়া যায় না। এছাড়া অনেকদিন এদিকে আসা হয় না, দেখা হয় না নদী। এবার ঈদে তাই এসেছেন। নদী ও সেতু অনেক ভালো লাগে তাদের। তাই তারা এখানে এসেছেন।

জেইউ