সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সিলেট মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানের সম্পত্তি ক্রোক না করে ফিরে এসেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জকিগঞ্জ থানা পুলিশ আলমনগর গ্রামে মালামাল ক্রোক করতে যায়। সেখানে গিয়ে বরখাস্ত হওয়া ওসির ঠিকানায় তার নামে কোনো বাড়িঘর পাওয়া যায়নি। তাই মালামাল ক্রোক করতে পারেনি পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম আহমদ চৌধুরীর ভাই কামাল আহমদ চৌধুরীকে। নির্যাতনের ওই ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানকে।
নির্যাতনের ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত আতাউর রহমানের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ আলমনগরে গিয়ে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পায়নি। চাকুরীতে যোগদানকালীন সময়ে ওই ঠিকানায় আতাউরের পূর্ব পুরুষরা বসবাস করে আসলেও পরবর্তী সময়ে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়।
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই কামাল আহমদ চৌধুরীকে কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান, ওসি (তদন্ত) শ্যামল বণিক, এসআই আবদুর রহিম, এএসআই তাহের ও কনস্টেবল অধির থানায় আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।
ওই ঘটনায় কামাল আহমদ চৌধুরীর ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী ২৪ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সালমা মাসুদ চৌধুরী ও মো: হাবিবুল গনির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সিলেট পুলিশ কমিশনারকে ওসি আতাউরসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া ওই ঘটনা তদন্তে এসএমপির উপ-কমিশনার আকরাম হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি বিভাগীয় অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। ২৬ এপ্রিল কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে ওসি আতাউর রহমান ও ওসি (তদন্ত) শ্যামল বণিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এসএমপির তৎকালীন কমিশনার মিজানুর রহমান কোতোয়ালি থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম, এএসআই আবু তাহের, কনস্টেবল অধির চন্দ্র, রাজিব কান্তি দাস, আজাদুর রহমান ও নাজমুল হোসেনকেও সাময়িক বরখাস্ত করেন। ওই ঘটনায় ওসি আতাউরসহ নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর থেকে ওসি আতাউর পলাতক রয়েছেন।
এমকে





