বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মুহূর্তের মধ্যে খুন করে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দিত আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত। খুনের ঘটনা কেউ দেখে ফেললে তাকেও বাঁচিয়ে রাখত না সে। চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ৪২ জেলে খুন ও ১৬ মামলার আসামি আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য দিয়েছে।
সোমবার রাতে বাইশ্যা ডাকাতকে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খুদুকখালী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তার গ্রেফতার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘ভয়ঙ্কর খুনি আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত। বঙ্গোপসাগরে ৪২ জেলে (৩১ ও ১১ জেলে) খুনের দুই ঘটনার প্রধান আসামি এবং বাঁশখালীতে ১২টি ও কক্সবাজারে চারটিসহ মোট ১৬ মামলার আসামি জলদস্যু সম্রাট বাইশ্যা। সে খুবই নিষ্ঠুর ও ধূর্ত প্রকৃতির। সে প্রমাণ রেখে কখনও খুন করে না। তুচ্ছ বিষয়ে জেলেদের খুন করে মৃতদেহ বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিত।’
তিনি আরও জানান, বাঁশখালী, আনোয়ারা, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় এলাকায় তার বিশাল বাহিনী আছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে যখন জেলে কিংবা অন্যদের কোন কাজ থাকে না তখন আয়ের জন্য তারা বাইশ্যার বাহিনীতে যোগ দেয়। তাকে গ্রেফতারের পর উপকূলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া বাইশ্যা নয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বোন দুর্ধর্ষ ডাকাত রহিমাসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় একবার বাইশ্যা ডাকাত গ্রেফতার হয়। ওই সময় সে ১১ মাস জেল খাটে।
২০১০ সালে সে অস্ত্রসহ খুদুকখালীতে ফের গ্রেফতার হয়। কয়েক মাস পর সে জামিনে বের হয়ে আসে। ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বাইশ্যা ডাকাত ও তার বাহিনী মিলে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার জাহাজখালী এলাকায় গভীর সমুদ্রে ৩১ জেলেকে নির্মমভাবে খুন করে মৃতদেহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ২৭ সেপ্টেম্বর কোস্টগার্ড সদস্যরা তার বাড়ি ঘেরাও করে গ্রেফতার চেষ্টা করলে সে সুফি আলম নামে এক কোস্টগার্ডের সোর্সকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
তবে সাংবাদিকদের সামনে বাইশ্যা ডাকাতির কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, ছনুয়ায় চিংড়ির ঘের নিয়ে জনৈক কামাল উদ্দিন ও সৈয়দ নূরের সঙ্গে বাইশ্যা ও তার বোন রহিমার বিরোধ ছিল। কামাল উদ্দিন ও সৈয়দ নূর বিভিন্ন ডাকাতি মামলায় তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, আমার বোন রহিমাকেও কোস্টগার্ড সদস্যরা গ্রেফতার করেছিল। আল্লাহর রহমতে তিনি জামিন পান। আমিও জামিনে বেরিয়ে আসব।
৪২ জেলে হত্যার বিষয়ে বাইশ্যা জানান, ওরা আসলে জেলে ছিল না। ওরা ডাকাত ছিল। ডাকাতি করে নৌকা নিয়ে পালানোর পথে তারা রামগতির জেলেদের হাতে ধরা পড়ে। রামগিতর জেলেরা তাদের হত্যা করে।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, বাইশ্যা প্রচণ্ড ধূর্ত। তার গত রাতের বক্তব্যের সঙ্গে এখন দেওয়া বক্তব্যের কোন মিল নেই। সে একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। রিমান্ডে নিলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপি একেএম এমরান ভূঁইয়া এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান মিলে তাকে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





