পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে। ইতিমধ্যে স্কুলটির খেলার মাঠ চলে গেছে নদী গর্ভে। বারান্দা ভেঙে পড়েছে নদীতে।

ফাটলের পাশাপাশি নিচের অংশ ভেঙে গেছে একটি শ্রেণী কক্ষের। যেকোনো সময় নদীতে মিশে যেতে পারে পুরো স্কুলটি। এরই মাঝে প্রাণের ঝুঁকি আর আতংক নিয়ে চলছে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের পাঠদান। স্কুলটি দ্রুত স্থানান্তর করা না হলে যেকোন সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না প্রধান শিক্ষক সহ স্কুল পরিচালনা কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, জেলার ফরিদপুর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বড়াল নদীর কোল ঘেঁষে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা হয় দিঘুলিয়া দক্ষিণপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরকারি করণ হয় পরের বছর ১৯৭৩ সালে। বর্তমানে মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে ২২০ জন শিক্শার্থীর পাঠদান। একটি মাত্র ভবনের চারটি কক্ষের একটিতে অফিস কক্ষ এবং বাকি তিনটিতে চলছিল পাঠদান। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে তিনটির মধ্যে একটি শ্রেণী কক্ষে দেখা দেয় ঝুঁকিপূর্ন ফাটল।

এবছরের বন্যায় সেই ফাটল বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুলের বারান্দার একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। শ্রেণী কক্ষটিও রয়েছে হুমকীর মুখে। এমন অবস্থায় দেখা দিয়েছে শ্রেণী কক্ষের সংকট। দু’টি শ্রেণী কক্ষে ৬টি ক্লাস নেয়া হচ্ছে দুই শিফটে। ফলে দূর্ভোগ উঠেছে চরমে। নদীর স্রোতে শ্রেণী কক্ষ ভেঙে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানীর মতো দূর্ঘটনা। বিকল্প উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি আর আতংক মাথায় নিয়ে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে চলেছেন শিক্ষকরা।
স্কুলের সহকারি শিক্ষক নয়নমনি তামলী বলেন, গত এক বছর ধরে ফাটল ধরেছে। এবারের বন্যায় ফাটলটা বেশি হয়েছে এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় আছে। আমাদের আশে পাশে কোনো জায়গা নেই যে সেখানে শ্রেণীকক্ষ তৈরী করে পাঠদান করার ব্যবস্থা করবো। যার কারণে ঝুঁকি আর আতংকের মধ্যে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছি।
অপর সহকারি শিক্ষক পারুল খাতুন জানান, নদীর পাশে হওয়ায় আমাদের স্কুলটা ভেঙে যাচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে আমরা ভয়ের মধ্যে ক্লাস করছি। যে কক্ষে ফাটল ধরেছে সেটাতেও ক্লাস করতে হচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আছি যে কখন না জানি শ্রেণী কক্ষ ভেঙে পড়ে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। শুধু শ্রেণী কক্ষ নয়, নদী গর্ভে চলে গেছে স্কুলের একটি টয়লেট। নদীর করাল গ্রাসে কমে আসছে স্কুলের জমি। কোমলমতী শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য নেই সড়ক। সরু একটি জায়গা দিয়ে সীমাহীন দূর্ভোগে যাওয়া-আসা করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। স্কুলের এমন ভগ্নদশায় তাই ভয় ভর করেছে তাদের মনেও।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির জানান, স্কুলের দুর্দশার বিষয়টি বারবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা কয়েকবার স্কুলে এসে পরিদর্শণও করে গেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। স্কুলটি দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তর করা না হলে যেকোনো সময় স্কুল ভেঙে পড়ে বড় রকমের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুলতান আহমেদ জানান, আমাদের সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ, জেলা শিক্ষা অফিস, বিভাগীয় অফিস এমনকি শিক্ষা অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়ে জরুরী বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না আসায় বিদ্যালয়টিতে কোনো কাজ করতে পারছিনা। জরুরী কিছু বরাদ্দ দিয়ে আপাত বিদ্যালয়টিতে রক্ষা করা প্রয়োজন।


রাকিবুল/ এমবিএইচ