ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের তীব্র চাপ থাকায় কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ ঘটনায় বিক্ষিপ্ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ছোট যানজট ক্ষণিকের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে পরিণত হচ্ছে।
ঈদ ও পূজার ছুটির কারণে বুধবার ভোর থেকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট শেষে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল শুরু হতে সময় লেগে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
ঈদ এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ব্যস্ততম এ মহাসড়কের যানবাহনের তীব্র চাপের পাশাপাশি গাড়ির তুলনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল বেশি থাকায় যানজট নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে যানজটের মাত্রা ততোই বেড়ে যাচ্ছে। মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৯৭ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় যানজট পিছু ছাড়ছে না।
সরেজমিনে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের দুই সারিতে যানবাহনের তীব্র চাপ। প্রতিটি গাড়ির স্বাভাবিক গতি ২০ থেকে ৫০ কি.মি.। যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। সামনের গাড়ি থেকে পিছনের গাড়ির দূরত্ব থাকছে ৭-১০ ফুট। এরই মধ্যে কোনো গাড়ি বিকল হলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। চলাচলরত গাড়িগুলো এতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রচণ্ড রোদে গাড়িতে বসে অসুস্থ হয়ে পড়ছে যাত্রীরা।
বুধবার ভোরে মহাসড়কের নিমসার এলাকার কাঁচা বাজার থেকে কুমিল্লা অংশে যানজটের সূত্রপাত ঘটে। সকালে মহাসড়কের চান্দিনা এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের চাকা বিকল হলে সৃষ্টি হয় যানজট। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় বিকল কাভার্ডভ্যানটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
দুপুরে একই স্থানে ঈগলু আইসক্রিমের গাড়ির এক্সেল ভেঙে ফের যানজট দেখা দেয়। দুপুর দেড়টার দিকে মহাসড়কের ঝাগুরঝুলি এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও ২টি পিকআপ এর ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটলে যানজট সৃষ্টি হয়। বিকাল ৪টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঝাগুরঝুলি এলাকাসহ কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত যানজট চলছে।
হাইওয়ে পুলিশ ময়নামতি ক্রসিং ফাঁড়ির ইনচার্জ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমেদ জানান, যানবাহনের চাপের কারণেই বিক্ষিপ্ত যানজট হচ্ছে। ঝাগুরঝুলি এলাকার দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
যানজট নিরসনে ও যানবাহনের স্বাভাবিক গতি আনতে হাইওয়ে পুলিশ ময়নামতির ৮টি দল ও দাউদকান্দির ৬টি দল কাজ করছে। এছাড়া জেলা পুলিশও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে জানান ওসি।
জেআই





