আগামী বাজেটে তামাকপণ্যে কর বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।

বুধবার সকালে এনবিআর চেয়ারম্যানের সাথে তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর জন্য কয়েকটি তামাকবিরোধী সংগঠন সাক্ষাত করলে তিনি এ কথা জানান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শক্তিশালী তামাক শুল্ক-নীতি গ্রহণ এবং আগামী বাজেটে সকল তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের দাবিতে বুধবার সংগঠনগুলো এনবিআর চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাত করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী আগামী বাজেটে তামাক কর বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এসময় তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের পক্ষে হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক স্বাক্ষরিত তামাকপণ্যে করারোপের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি মাননীয় চেয়ারম্যানের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

চিঠিতে আসন্ন বাজেটে তামাকজাত পণ্যে উচ্চহারে করারোপের জন্য নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়: ব্যবহৃত মূল্যস্তর প্রথা তুলে দিতে হবে, সব ধরনের সিগারেট, জর্দা এবং গুলের উপর ৭০ শতাংশ, বিড়ির উপর খুচরা মূল্যের ৪০ শতাংশ, তামাকের চুল্লি প্রতি বাৎসরিক ৫ হাজার টাকা লাইসেন্সিং ফি আরোপ, ২% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান জনাব মো: নজিবুর রহমান এর সাথে সাক্ষাৎ করেন তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের পক্ষে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স এর লিড কনসালটেন্ট মো: শরিফুল আলম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর এপিডেমিওলজি এন্ড রির্সাচ ডিপার্টমেন্ট এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সোহেল রেজা চৌধুরী, প্রোগ্রাম অফিসার আতাউর রহমান মাসুদ এবং প্রজ্ঞা’র পরিচালক মনোয়ার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি ১৩ লক্ষ (GATS, ২০০৯) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২৩% (২ কোটি ১৯ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২৭.২% (২ কোটি ৫৯ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৭% (GYTS, ২০১৩) কিশোর-কিশোরী তামাকপণ্য ব্যবহার করে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ (IHME, ২০১৩) মানুষ অকাল মৃত্যু বরণ করে।

ইআর