লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে ভাসতে থাকা ৬৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১৭ জন দেশে ফিরেছেন।

আজ (২১ জুন) শুক্রবার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকা আসেন।

বিমানবন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিউনিসিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা ১৭ জনের মধ্যে শুধু মাদারীপুর জেলার ৯জন রয়েছেন। এছাড়া বাকি ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বাকি ৫ জন নোয়াখালী, চাঁদপুর, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দা।

দেশে ফিরে আসা এই ১৭ জনের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসী হতে চেয়েছিলেন তারা। এরা হলেন- মাদারীপুরের মোহাম্মদ লাদেন মাতব্বর (২০), রাসেল মাতব্বর (৩০), রাজীব মাতব্বর (২০), জুয়েল শাহজালাল (৩৪), আজাদ রহমান (২৭), পিয়ার আলী (২৯), আকমন মাতব্বর (২০), মীর আজিজুল ইসলাম (৩৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু বকর সিদ্দিক (২৩), শাহেজুল খাদু (২৫), ইদ্রিস জমাদ্দার (২৪), নিয়ামত শিকদার (১৮), নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম (২৮), চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম (৩৩), শরীয়তপুরের রাকিব হোসেন (২১), মৌলভীবাজারের জিল্লুর রহমান (৩৫) ও সুনামগঞ্জের শিপন আহমেদ (২১)।

আজ (২১ জুন) বিকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশের বিশেষ শাখা, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ানসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা প্রাথমিকভাবে তাদের সাথে কথা বলেন। পরে জিজ্ঞাসবাদ শেষে সন্ধ্যার দিকে তাদের বিমানবন্দর থেকে যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়া হয়।

পৃথক সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে পাচারের শিকার এইসব ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয়ভাবে দালালদের মাধ্যমে কয়েকটি রুটে তারা লিবিয়া পৌঁছান। সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থানের পর লিবিয়ার ত্রিপোলি উপকূল থেকে তিউনিসিয়া উপকূল হয়ে ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, এই ধরনের মানবপাচার যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় দালালদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। 

এমবি