নড়াইলের কালিয়ায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামীন জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের এই প্রকল্প ঘিওে সীমাহীন দুর্নীতি আর লুটপাট হয়েছে।
এ প্রকল্পে বিনা মূল্যে দেয়া গরু, হাঁস-মুরগি, ঢেউটিন বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়ন সমিতির সদস্য মোঃ তকিবার মোল্যা,আরাজী কলিমন ও আটঘরিয়া সমিতির সদস্য কামনা রাণী রায়,বিভাবরি বোস,লিপিকা রানী, সুষমা রানী রায়,দিলীপ বিশ্বাস ,সরস্বতী সরকার, সুখেন সরকার, বৈদ্যনাথ রায়,মোল্যা ডাঙ্গা গ্রামের সমিতির সদস্য সোহাগ তরফদার, সুবর্ণা তরফ,দীপা রানী মন্ডল, মঞ্জু রানী রায়,রত্না রানী রায়,কনিকা রানী রায় মাসিক ২শ টাকা করে সঞ্চয় শুরু করে, প্রত্যেক সদস্য ৯ হাজার ৬শ টাকা বা এর বেশি পরিমান টাকা সঞ্চয় করেছেন। এর বিপরীতে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ৬০ জন করে সদস্য নিয়ে একটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন দল সমিতি গঠন করা হয়। কালিয়া উপজেলায় এ পর্যন্ত ১১০টি সমিতি গঠন করা হয়েছে।
নিয়মানুযায়ী সমিতি’র হতদরিদ্র সদস্যরা মাসিক ২শ টাকা করে কিস্তির মাধ্যমে বছরে মোট ২ হাজার ৪শ টাকা সঞ্চয় করলেই ওই সদস্যের হিসাবের অনুকুলে সরকারী সমপরিমানের টাকা জমা হবে।
সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা যোগ করে এক বছর পর থেকেই প্রত্যেক সদস্যকে সঞ্চয়, সরকারী ঋন এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা মিলে যে টাকা জমা হবে সে টাকা সমভাবে বন্টনের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা হবে। কিন্তু এ নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রত্যেক সদস্যকে তারই জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা থেকে ঋণ প্রদান করে সুদের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আবার সদস্যদের সঞ্চয়ের সমপরিমান টাকা সরকারি অনুদান হিসেবে জমা বইয়ে দেখানো হলেও বাস্তবে এ অর্থ বরাদ্দ হয়নি বলে সদস্যদের বলা হচ্ছে।
অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঋণ প্রদানের ফলে গ্রাহকরা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেনা বলে জানাগেছে। আবার অনেক সদস্য ঋণ না পেয়ে নিজেদেরকে সমিতি থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ৮ শতাংশ সুদে এ পর্যন্ত ৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে। এর মধ্যে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এদিকে এ প্রকল্পে উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগী নির্বাচনে সভাপতি ইউএনও’র নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কাগুজে কমিটি রয়েছে।
এ কমিটি ইচ্ছামতো লোকজন নিয়ে মনগড়া উপকারভোগী নির্বাচন করে দুঃস্থদের বঞ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, প্রকল্পে ৪টি ইউনিয়নের ১শ টি দুস্থ পরিবারকে গরু,হাঁস-মুরগি ও ঢেউটিন দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম জানান, ইউএনও যাবতীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন বিধায় এ প্রকল্পে কোন অনিয়ম হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহীন হোসেন বলেন, অনিয়মের সাথে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএইচ





