রাজধানীতে ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র গরু,মহিষ ও ছাগল ভেড়া জবাই  করা হচ্ছে। এছাড়া নগরীর কাপ্তান বাজার, হাজারীবাগ, মিরপুর ১১নম্বর  এবং মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট সংলগ্ন জবাইখানার পরিবেশ  আরো অস্বাস্থ্যকর ও নাজুক।

আর এসব দেখার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনে মাত্র ২ ভেটেরিনারী ডাক্তার এবং ৫ জন ভেটেরিনারী পরিদর্শক রয়েছেন। কিন্তু জবাই খানায় পশু পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাপ্তান বাজার ও হাজারীবাগ জবাইখানা ছাড়াও আশপাশের এলাকা যেমন- লালবাগ,হাজারীবাগ,আজিমপুর, নিউমার্কেট,নবাবপুর,সূত্রাপুর,ম্যামবাজার,ওয়ারী,ডেমরা,খিলগাঁও ,মতিঝিল, বাসাবো প্রভৃতি এলাকার কাঁচাবাজার এবং  মহল্লার মাংসের দোকান তদারকির  দায়িত্বে ভেটেরিনারী ডাক্তার আবদুর রাজ্জাক,ভেটেরিনারী ডাক্তার  শফিকুল ইসলাম,পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম,পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন মোল্লা,পরিদর্শক আবদুর রউফ, পরিদর্শক ফরিদ আহমেদ,সিলম্যান আবদুল আজিজ(পরিদর্শক)।

অভিযোগ রয়েছে,জবাইখানার ভেতরেই জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য (অসুস্থ্য,রোগা কিংবা গাভিন কিনা তা) পরীক্ষার-নিরীক্ষা হয় না। তবে মাঝে মধ্যে জবাইখানার ভেতরে গরুর মাংসের সিল মারা হয়। কিন্তু জবাইখানার বাইরে জবাই হওয়া পশুর মাংসের কোনো সিলা মারা হয় না। এমনকি সিলমারা ব্যবস্থাও নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জনা যায়, প্রতিদিন গড়ে কাপ্তান বাজার জবাইখানায় দেশী বিদেশী ১৫০টি গরু, ৬০টি মহিষ এবং হাজারীবাগ জবাইখানায় ১২০টি গরু ও ৫০টি মহিষ জবাই হয়।এর বাইরে ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার কাচাঁবাজার ও মহল্লায়  প্রতিদিন গড়ে  জবাই হচ্ছে প্রায় ৪ শতাধিক গরু এবং ২ হাজারের অধিক ছাগল-ভেড়া।  

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মিরপুর ১১নম্বর কাঁচাবাজার  জবাইখানা এবং মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জবাইখানা তদারিকির জন্য কোনো ভেটেরিনালী ডাক্তার নেই। মাত্র ২ জন  ভেটেরিনারী পরিদর্শক নুরুল হক ও হুমায়ুন কবির দায়িত্বে আছে।

প্রতিদিন গড়ে এ ২ জবাইখানায় দেশী বিদেশী ২২০/২৩০টি গরু এবং ৭০/৮০টি মহিষ জবাই হয়। এছাড়া মিরপুর,গাবতলী,পীরেরবাগ,মো.পুর তেজগাঁও,কাফরুল, কচুক্ষেত,কাওরানবাজার,মহাখালী,গুলশান,বাড্ডা,বসুন্ধরা আবাসিক,কুড়িল,উত্তরা প্রভৃতি এলাকার কাচা বাজার ও মহল্লায় যত্রতত্র দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ শতাধিক গরু,৫০টি মহিষ এবং ৩ হাজারের অধিক ছাগল ভেড়া জবাই হয়। এসব পশুর পরীক্ষা নিরীক্ষা তো দূরের কথা জবাইয়ের পর মাংসের গায়েও সিল মারা হয় না।

এদিকে কাপ্তানবাজার জবাইখানার ভেটেরিনারী ডাক্তার আবদুর রাজ্জাক  টাইমনিউজবিডিকে বলেন, জবাই খানায় পশু রাখা এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি পরীক্ষার করার মতো উপকরণও নেই। যার ফলে পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই হচ্ছে। এছাড়া নগরীতে চাহিদা মোতাবেক জবাই খানা নেই।

তিনি বলেন, জবাইখানার বাইরে পশুর মাংসের গায়ে সিল মারা হয় না। কারণ সিল শুধুমাত্র জবাইখানায় ব্যবহার করা হয়।

ঢাকা,একে,২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ