নড়াইলের সুদের টাকা না পেয়ে এক ব্যক্তিকে গলায় গামছা দিয়ে বেধে উলঙ্গ করে হাতুড়ি পেটা করেছে। ঘটনাটি রবিবার নড়াইলের লাহুড়িয়া বাজারে ঘটেছে। মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম কুবাদ বিশ্বাস (৪৫)। সে ব্যবসায়ী (কুলু) পাড়ার মৃত তাইজদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে, ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিগত তিন মাস পূর্বে ডহরপাড়া গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের মেয়ে সোনাই বিবির নিকট থেকে কুবাদ বিশ্বাস ১০ হাজার টাকা সুদে গ্রহণ করেন। কিন্তু সুদের টাকা দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ঘটনার সময় ওই গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের দুই ছেলে কালন (৩৫) ও ওছি (৪০), শামছেল এর ছেলে গামছাব (২৫) এবং বছির জমাদ্দারের ছেলে মিলন (৩৫) তাকে গলায় গামছা দিয়ে বেধে জনসম্মুখে উলঙ্গ করে হাতুড়িপেটা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, কালন, ওছি, রকিব ও মিলন ভুক্তভোগী কুবাদকে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রথমে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে জনসম্মুখে উলঙ্গ করে গলায় গামছা দিয়ে বেধে হাতুড়িপেটা করতে থাকে। এ সময় স্থানীয় জনতা অভিযুক্তদের ঘেরাও করলে তারা পরিস্থিতি খারাপ থেকে সেখান থেকে সটকে পড়ে।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এসে এলাকাবাসীর সাহায্যে কুবাদকে উদ্ধার লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর নড়াইল সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। এ ব্যাপারে লাহুড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কিশোর কুমার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় বহুবার এ ধরনের অপকর্ম করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ পুলিশের নিকট কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসী জানায়, একটি প্রভাবশালী মহলের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসায়ের নামে জনগণের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। উল্লেখ্য যে, বিগত দুই মাস পূর্বে লোহাগড়া উপজেলাধীন লাহুড়িয়া ব্যবসায়ী (কুলু) পাড়ার শাহাজাহানের ছেলে লালচাঁদ (২২) অভিযুক্তদের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা সুদে গ্রহণ করে। সুদ প্রদান করতে কিছুদিন বিলম্ব হওয়ায় প্রহসনমূলক শালিস বসিয়ে তার নিকট থেকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। যে টাকা দিতে তাকে নিজের শেস সম্বল বাড়িখানাও বিক্রি করতে হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

উজ্জল/জেড