জলাতঙ্ক রোগের জীবানুবাহি বেওয়ারিশ কুকরের উৎপাতে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। গত দুই বছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) রেওয়ারিশ কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অভয়ারন্য নামে একটি এনজিও'র বিরুদ্ধে ডিসিসি থেকে কুকুর নিধনের প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের পরিবর্তে বন্ধাত্ব করণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওই এনজিও।
ডিসিসির সূত্র জানান, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ডিসিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অভ্যয়ারন্য নামের ওই এনজিওর মালিক রুবাইয়া বেগম ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেয়। চুক্তিতে শর্ত ছিল বেওয়ারিশ কুকুর নিধন না করে 'বন্ধত্বকরণ এবং টিকা দানের’ মাধ্যমে  ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কুকুর নিয়ন্ত্রণ করবেন।
ডিসিসি থেকে বসিলায় ব্রিজের আগে সরকারি জমিতে টিনের ঘরকে ক্লনিক দেখিয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া এবং কুকুর ধরে বহনের জন্য একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া ৮৬ হাজার ৩শ' টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, এই এনজিওর মাধ্যমে কুকুর বন্ধাত্বকরণ কার্যক্রমের নামে দাতা সংস্থার কাছ থেকে বিনামূল্যে ওষুধ, যন্ত্রপাতি এবং অর্থ পাচ্ছেন। কিন্তু কুকুর নিয়ন্ত্রনের কার্যক্রমের নামে দায়িত্ব অবহেলা এবং অর্থ লোপাটের মানসিকতার কারণেই আজ নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌছেছে।
ঢাকা দক্ষিণের ভেটেরিনারী বিভাগের কর্মচারীরা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আগে নগরবাসীর আবেদন ও চাহিদা মোতাবেক জরুরী ভিত্তিতে প্রতিদিন গড়ে ৪৫টি করে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা হতো।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি বহুমুখী সমবায় সমিতির সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা হোসেন চৌধুরী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, গত ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পশ্চিম পীরের বাগ এলাকায় তার মোটর সাইকেলের উপর লাফিয়ে পড়েছে একটি বেওয়ারিশ কুকুর। এ ধরেনের আরো অনেক অভিযোগ জমা পড়ছে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীরা জানান, ‘অভয়ারন্যের’  (এনজিও) মালিকের বন্ধত্বকরণ প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমতপোষণ করায় গত দুই বছর ডিসিসি’র একমাত্র নিজস্ব ভেটেরিনারী ডাক্তার আজমত আলীকে বরখাস্ত করে রেখেছে।
ওই কর্মচারীরা বলেন, নগরীর ৯২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর আছে। এর মধ্যে মাদী কুকুরের সংখ্যা বেশি। সবল ও সুস্থ মাদী কুকুর বছরে দুইবার করে ৩/৫টি করে বাচ্চা প্রসব করে। যার ফলে নগরীতে অস্বাভাবিক হারে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। এমনটি সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ এবং উত্তর নগর ভবন এবং ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভেতরই বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরাঘুরি করে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য প্রধানকর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মাসুদ আহসান টাইমনিউজবিডিকে বলেন,  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে নগর প্রতিটি এলাকাতেই বেওয়ারিশ রয়েছে।
তিনি বলেন, ওই এনজিওর গত তিন মাসের বিল আটকে দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদও শেষ। আর চুক্তি নবায়ন করা হবে না। এছাড়া ‘অভয়ারন্যের’ মালিক রুবায়ার উগ্র আচরনে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরাও ক্ষুব্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রাণী হত্যার উপর এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যারফলে কুকুর মারার বিষয়ে একটু চিন্তা করতে হচ্ছে।
ডিসিসি’র নিজস্ব ভেটেরিনারী ডাক্তার আজমত আলীর বরখাস্ত আদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই ওই ভেটেরিনারী ডা. আজমত আলী কাজে যোগদান করতে পারবেন।
অপরদিকে অভ্যায়ারন্যর কর্মচারীরা জানান, বেওয়ারিশ কুকুরকে বন্ধাত্ব করলে কুকুরের বংশ বৃদ্ধি কমে যাবে। তারা মোহাম্মদ পুর, শ্যামলী,আদাবর, কল্যাণপুরসহ আশপাশের এলাকাসহ ১৫টি ওয়ার্ডের তিন হাজার কুকুর বন্ধাত্বকরণ করেছে।
[b]ঢাকা, একে, ১২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]