লক্ষীপুর জেলায় পুলিশের হাতে আটকের পর গুলিতে আহত হয়েছেন কিরণ ও রুবেল নামে দুই যুবদল এবং যুবলীগ নেতা। বর্তমানে তারা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগীরা জানান, আটকের পর পুলিশ চোখ বেঁধে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর মাটিতে শুইয়ে দু’জনের পায়ে গুলি করা হয়।

তবে পুলিশ বলছে অভিযান চলাকালে তারা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ কিরণ হোসেন (৩২) সদর উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। অপরজন মাইদুল ইসলাম রুবেল (২৬)। তিনি একই উপজেলার বসুদুহিতা গ্রামের এ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগকর্মী।

শুক্রবার রাতে উপজেলার বালাইশপুর গ্রামে তারা গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর পর পুলিশের পাহারায় তাদের সফর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘ওই দু’জনই মাসুম বিল্লাহ ওরফে লাদেন মাসুম বাহিনীর সদস্য। আটকের পর অস্ত্র উদ্ধার ও বাহিনী প্রধান মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযানে গেলে পুলিশের সঙ্গে ওই বাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে দু’জন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।’

এ ঘটনায় কনস্টেবল ইব্রাহিম হোসেন, নাজমুল আহসান ও শরীফ হোসেন নামে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে এসপি জানান।

এসপি আরও বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের জাহানাবাদ এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি কিরণ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। আগের রাতে একই উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকে সাইফুল ইসলাম রুবেল নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।’

এদিকে পূর্বাঞ্চলের সন্ত্রাসী মাসুম বিল্লাহ ওরফে লাদেন বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন দু’জনই।

যুবদল নেতা কিরণ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে লাদেন মাসুমকে চিনি না।’

তিনি জানান, শুক্রবার তিনি বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করে গাড়িতে তোলে।

এ সময় তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। রাতে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তাকে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলে। পরে বাম পায়ে গুলি করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’

একই কায়দায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রুবেল।

তিনি বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। পুলিশ অন্যায়ভাবে আমাকে গুলি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি চন্দ্রগঞ্জ বাজারের শাহীন হোটেলে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আটক করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার রাতে চোখ বেঁধে পুলিশ অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে বাম পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে।’

জেআই