ভিক্ষু সংঘকে চীবর দানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে রাঙামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় কাপড়) তৈরি করে সেটা আবার দান কার্য সম্পন্ন করা হয়।

এসময় অর্ধ শতাধিক কল্পতরু (কৃত্রিম গাছ) ও বুদ্ধমূর্তি দান করা হয়। কল্পতরু ছাড়াও পুণ্যার্থীরা তাদের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করে সাধ্য অনুযায়ী দান করে।এর আগে সকাল বেলা সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও ভিক্ষসংঘকে পিণ্ডদান করা হয়।

বৌদ্ধ ধর্ম মতে, কঠিন চীবর দানকে দানোত্তম বলা হয়। কারণ কঠিন চীবর দান কার্যে হাজার মানুষের অংশগ্রহণ থাকে। তাদের বিশ্বাস এই দানের মাধ্যমে ভগবান বুদ্ধ সবার পাপ ক্ষমা করে জীবের প্রতি শান্তি বর্ষণ করেন। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া চীবর তৈরি কার্যক্রম শুক্রবার শেষ হয়।

শুক্রবারে রাজবন বিহারে কার্যক্রমকে দুভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগে দানকার্য সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে শুরু হয় দেশনা। ভক্তদের উদ্দেশে দেশনা দেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রতিনিধি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। তিনি এসময় বৌদ্ধ ধর্মের অহিংস নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভগবান বুদ্ধ জীবের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করে গেছেন। তেমনি বর্তমানেও সব জীবের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। বনভান্তের আদর্শানুযায়ী জীবন গঠনে ভক্তদের আহ্বান জানান।

হাজার ভক্তদের তৈরি কঠিন চীবর দান করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। এসময় নতুন রানী ইয়ান ইয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগমসহ অন্যান্য সরকারি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।

 জেআই