গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ও ঘাঘট নদীর পানি জেলা সদরের ডেভিট কোম্পানি পাড়া পয়েন্টে কমেওনি আবার বাড়েওনি। তবে তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৮ দশমিক ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের ফুলছড়ি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি জেলা সদরের ডেভিট কোম্পানি পাড়া পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

অপরদিকে তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে এবং করতোয়ার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ১৪ ঘণ্টায় জেলার বন্যা সার্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও বন্যা দুর্গত মানুষের কষ্ট বাড়ছে। চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবার নেই। খাদ্যের জন্য চলছে হাহাকার।

এদিকে সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া নৌকা যোগে উপজেলার হরিপুর চরাঞ্চলে ত্রাণ বিতরণের জন্য যান। নৌকাটি ডাঙ্গায় থামার পর শুরু করা হয় ত্রাণ বিতরণ। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় ত্রাণের নৌকাটি পানি মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। অনাহারী মানুষ সামান্য ত্রাণের জন্য পানি ভেঙে সেখান যান। একপর্যায়ে পানির মধ্যেই লাইক করে তাদের ত্রাণ দেওয়া হয়। লাইনে অপেক্ষা করেও অনেকের ভাগ্যে জোটেনি ত্রাণের চাল। এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

একই উপজেলার বেলকা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, বন্যার কারণে তারা অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন।

একই গ্রামের জয়নাল আরদিন জানান, বন্যার পানিতে নলকূপগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তারা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তিনি বন্যা দুর্গত এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল টিম স্থাপনের দাবি জানান।

ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হক জানান, মঙ্গলবার থেকে এ উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। এরপর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও আমাদের পাশে কেউ আসেনি।

তিনি আরো জানান, তার ৬ সদস্যর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন রিকশাভ্যান চালিয়ে। কিন্তু বন্যায় সব রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় রোজগারের পথ একেবারে বন্ধ। এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে জোটেনি এক মুঠ ত্রাণ। পরিবার পরিজন নিয়ে তার দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে।

অপরদিকে, জেলা সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটাসহ চারটি উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক পরিবারের জন্য সরকারি ভাবে মাত্র দুই হাজার শুকনা খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। সুতরাং কোথাও কোনো সমস্যা হবে না। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরীভাবে ২২৫ মে. টন চাল ও নগদ ৯০ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে থেকে ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

রুবেল/জারিফ