ক্লাস চলার সময় শিক্ষিকাকে ‘ম্যাডাম কুক’বলায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ২৯ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার কাছেমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম।
খবর পেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি, সদস্য ও অভিভাবকেরা ঘটনার আধঘণ্টা পর বেলা আড়াইটার দিকে ক্লাস রুমে আটকে রাখা অবস্থায় স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে।
এদের মধ্যে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিচ্ছিলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম। এসময় ক্লাস রুমের বাইর থেকে ওই শিক্ষিকাকে উদ্দেশ্য করে অন্য ক্লাসের এক ছাত্র ‘ম্যাডাম কুক’বলে দ্রুত সরে যায়। পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস থেকে এমন শব্দ উচ্চারিত হওয়ার অযুহাতে ক্ষিপ্ত হয় শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম।
একপর্যায়ে তিনি (শিক্ষিকা) ক্লাস রুমের দরজা বন্ধ করে ওই ক্লাসের উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত ভাবে বেত্রাঘাত করে। এতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া, বিথী, লিজা, স্বপ্না, জিনিয়া, নাদিয়া, সুমাইয়া, ফাতেমা, স্বর্ণা, জান্নাত, শম্পা, রেখা, আঞ্জুমান, রিপা, ছাত্র জিহাদ হাওলাদার, জাহিদ সিকদার, আবতাহির সিকদার, ইয়াসিন আকন, রাহাত ফকির, তুহিন বেপারী, লিটন সরদার, বায়েজিত বেপারী, সৌরভ, শুভ মোল্লা, সাইফুল ইসলাম, জাফর ইকবালসহ ২৯ শিক্ষার্থী আহত হয়।
বেত্রাঘাতের পর তাদের ক্লাস রুমের বাইর থেকে ওই শিক্ষিকা আটক করে রাখে। খবর পেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি সেকান্দার আলী সিকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক স্কুলে এসে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে বিষয়টির সমাধান করেছি।
ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি সেকান্দার আলী সিকদার বলেন, স্কুল লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত সমাধান বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার থেকে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে স্কুলে আসতে পারবেনা বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা মাসুদ বলেন, ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
কেএইচ





