মহাসড়কে অটোরিকশা ও টেম্পু চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোরিকশা-টেম্পু সংগ্রাম পরিষদ। একই সাথে মহাসড়কের পাশে আলাদা লেন, ডিভাইডার নির্মাণ ও পরিকল্পিত আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনা করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অটোরিকশা-অটোটেম্পু চালক-মালিক যাত্রী সাধারণের কথা বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে এক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ অটোরিকশা-অটোটেম্পু সংগ্রাম পরিষদের আয়োজিত আলোচনা সভায় সংগঠনটির আহ্বায়ক গোলাম ফারুক বলেন, ‘অটোরিকশা-অটোটেম্পু হলো ‘গরীবের অ্যাম্বুলেন্স’ হিসেবে পরিচিত। এ যানটি যাত্রীদের ‘ডোর টু ডোর’ সার্ভিস দিয়ে আসছে।’
এ গাড়ি কোনো অবৈধ যান নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা-অটোটেম্পু চালকদের সংখ্যা তিন লক্ষ। ১২ থেকে ১৫ লক্ষ পরিবার এ খাতের সাথে জড়িত। প্রতিদিন ৯০ থেকে ৯৫ হাজার যাত্রী এসব পরিবহণ ব্যবহার করে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘চালক ও মানুষের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া অটোরিকশা-অটোটেম্পু চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত। সড়ক দুর্ঘটনার অজুহাত দিয়ে মহাসড়ক থেকে এসব গাড়ি বন্ধ করলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না।’
একই সাথে মহাসড়কে চালকদের নামে বরাদ্দকরা ৫ হাজার অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন প্রদান, গাড়ি ছিনতাই ও শ্রমিক হত্যা বন্ধ, পুলিশ ও রাজনৈতিক চাঁদা বন্ধ, বিআরটিএ’র হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি জানায় সংগ্রাম পরিষদ।
সভায় শ্রমিক নেতা সুলতান আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের নাম করে মহাসড়ক থেকে অটোরিকশা-অটোটেম্পু বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা।’
ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলে হাইকোর্টের আদেশের সাথে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে চললেও সরকার এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কিন্তু বৈধ যান অটোরিকশা-অটোটেম্পু বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনো যথাযথ সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।’
আলোচনা সভায় অটোরিকশা-অটোটেম্পু সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা ও শ্রমিক নেতা আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অটোরিকশা-অটোটেম্পু মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
এমএ





