ভোলায় আলুর বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। বিগত বছরের তুলানায় ভাল দাম পাওয়ায় এবং সেই সাথে হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন তারা। এতে আগামীতে আলু উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের।
তাদের মতে, এ মৌসুমে আলুর ফলন বিগত ১৫ বছরের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভালো মানের বীজ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ভালো ফলন হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেতে চলছে আলু উত্তোলন ও বস্তাভর্তির কাজ। নারী ও পুরুষরা আলু উত্তোলনের কাজ নিয়ে ব্যস্থ সময় পার করছেন। প্যাকেটজাত শেষে এসব আলু আবার চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।
হেক্টর প্রতি উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ও বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষক, চাষী ও পাইকাররা।
ইলিশা গ্রামের আলু চাষী নুরে আলম বলেন, এ মৌসুমে আলুর খুব ভালো ফলন হয়েছে। ২লাখ টাকা উৎপাদন খরচ হলেও ৪ লাখ টাকার আলু বিক্রি করেছি। লোকমান ও কাসেন বলেন, গত বছর আলুর দাম ছিলো মন প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কিন্তু এ বছর মন প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩শত থেকে সাড়ে ৩শত টাকা। সামনের দিকে আলুর দাম আরো বাড়তে পারে।
আলুর পাইকারদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ভোলার আলু ফেনী, চট্রগ্রাম, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছি, কারন স্থানীয় বাজারের চেয়ে ওই জেলায় দাম অনেক বেশি। এতে একদিকে আমরা যেমন লাভবান হচ্ছি অন্যদিকে কুষকরাও।
কৃষি অফিস সুত্র জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৫ হাজার ২৬৮ হেক্টর। কিন্তু লক্ষমাত্রার চেয়ে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলাতে।
জেলায় মোট আলু উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন। চাষীরা জানালেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোলার আলুর চাহিদা থাকায় জেলার বাইরেও আলু বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। কেউ আবার বেশি দাম পাওয়ার আসায় আলু মজুদ করে রাখার চিন্তাও করছেন।
ভোলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রামেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন, অন্য মৌসুমে হেক্টর প্রতি আলু উৎপাদন হয়েছিলো ২২ মেট্রিক টন, কিন্তু এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ২৩ মেট্রিক টন। যা বিগত ১৫ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, ভালো বীজ, কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্জা ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে আলুর ভালো ফলন অর্জিত হয়েছে। যা আগামীতে কৃষকের আরো বেশি আলু চাষে উৎসাহিত করবে।





