ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী ১০ বছর কারাদণ্ডের সাজা খেটেছেন কি না, তা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নিজাম হাজারীর আসন শূন্য ঘোষণা নিয়ে জারি করা রুল শুনানিতে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও মনজিল মোরসেদ। নিজাম হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু।
পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, নিজাম হাজারী ১০ বছর কারাদণ্ডের সাজা খেটেছেন কি না, তা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এছাড়া নিজাম হাজারী কারাগার থেকে কীভাবে মুক্তি পেয়েছেন এবং কতদিন কারাগারে ছিলেন তা সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারককে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলেছেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে বলেও জানান মনজিল মোরসেদ।
অস্ত্র মামলায় সাজা কম খাটার অভিযোগ এনে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেন। এ রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
ওই সময় রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, প্রথম আলো পত্রিকায় এসেছে নিজামউদ্দিন হাজারী একটি অস্ত্র মামলায় সাজা কম খেটেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন।
এছাড়াও সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদে রয়েছে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, তিনি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।
আর নিজাম হাজারীর ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(চ) ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয়।
চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানায় হওয়া মামলায় চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে এই সাজা দিয়েছিলেন। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলা হয়। অর্থাৎ ১০ বছর সাজা ভোগ করবেন নিজাম হাজারী।
সেই হিসেবে তিনি ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হইবার যোগ্য নয়। অথচ তিনি সাজাও কম খাটেন আবার সংবিধানও মানেননি। তাই তার পদ অবৈধ।
আদালতে রিট আবেদনটি করেন ফেনীর যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন।
পরে বেঞ্চ পরিবর্তন ও কয়েক দফায় বিব্রতবোধ করার পর এই বেঞ্চে রুল শুনানি শুরু হয়।
এমবি





