ইহুদি বসতি স্থাপনের নামে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানিয়ে এ সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুই রাষ্ট্র সমাধানের উদ্যোগের প্রতিও নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাহমুদ আব্বাস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার ঢাকায় আসেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন আব্বাস। আনুষ্ঠানিক বেঠক শুরুর আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিছু সময় একান্তে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে আনুষ্ঠানিক বৈঠক চলে প্রায় ৪৫ মিনিট। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। শেখ হাসিনা এবং মাহমুদ আব্বাসের উপস্থিতিতে এ স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ফিলিস্তিনের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালকি।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন করে বসতি স্থাপনের উদ্যোগের নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের উদ্যোগ ইসরাইলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড। প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধানে দুই জাতির জন্য দুই রাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান।

এছাড়াও জাতিসংঘসহ সব ফোরামে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে জ্বালানি খাতে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

ফিলিস্তিনের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ যে বৃত্তি দিয়ে থাকে, সে জন্য মাহমুদ আব্বাস বাংলাদেশের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রিয়াদ আল মালকি, প্রধান বিচারপতি মাহমুদ আলহাব্বাশ, প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবুরুদাইনাহ ও কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাজদি খালদি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। তিনি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপর তার সম্মানে রাষ্ট্রপতি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আজ শুক্রবার বিকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

জেড