রাজধানীর কল্যাণপুরে স্টর্ম-২৬ জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে তিনজন নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ও তিনজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

মনিরুল ইসলাম বলেন, কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহতদের মধ্যে তাজ-উল-হক রাশিক, আকিতুজ্জামান খান, সাজাদ রউফ ওরফে অর্ক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র এদিকে আব্দুল্লাহ, আবু হাকিম নাইম, রায়হান খান ছিলেন মাদ্রাসা ছাত্র। আর মো. জোবায়ের হোসেন নোয়াখালীর গভর্নমেন্ট কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন ও মো. মতিয়ার রহমান চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত আব্দুল্লাহ কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওড়া হাদিস পাস করেন। এরপর তিনি কওমি মাদ্রাসা ত্যাগ করে আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন।

এদিকে, রায়হান কবির ওরফে তারেক ছিলেন মাদ্রাসার ছাত্র। তিনি হুজি কমান্ডার ছিলেন। রায়হান আশুলিয়া পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। সে তারেক নামে পরিচিত থাকলেও তার পরিবারের কেউ তাকে তারেক নামে চিনতো না।

রায়হান প্রায় ১ বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে তার কোনো প্রকার যোগাযোগ ছিল না বলেও জানান তিনি।

মনিরুল বলেন, আমরা ধারণা করছি, গুলশান হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের সঙ্গে এদের যোগাযোগ ছিল। এদের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ইকবাল (সম্ভাব্য) একজন পালিয়ে গেছেন, তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

কল্যাণপুরের ঘটনায় মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াতে হামলায় জড়িতরাও ছিলেন নর্থ-সাউথের। এছাড়া জঙ্গিবাদের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদেরও ধরে পুলিশ।

ওএফ