বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের ৮১ মিলিয়নের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফেরত পাঠাচ্ছে ফিলিপাইন। দেশটির আদালত অতি দ্রুত এ অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরপরই দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চলতি নভেম্বরেই ম্যানিলা যাচ্ছে।

কারণ অবশিষ্ট অর্থ কোথায় গেছে ফিলিপাইনের সরকার তদন্ত করে তা খোঁজ করতে পেরেছে বলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ এই অর্থ নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভের অ্যাকাউন্টে কিংবা ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে সরাসরি পাঠাবে। আর এই ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এখন আর কোনো বাধা নেই এবং এ অর্থ কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়ে যাবে। তবে অবশিষ্ট অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ফিলিপাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আইটি সিস্টেম হ্যাক হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরের কোনো একসময়ে নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভের বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরি হয়। এই অর্থের ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।

তারপর এ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ না করলেও চলতি বছরের ফেব্র“য়ারিতে ফিলিপাইনের ইনকোয়ারার পত্রিকা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা জানাজানি হয়। মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় ফিলিপাইনের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে বেশ চাপের মুখে পড়ে।

তারপর ফিলিপাইন বেশ তৎপর হয়ে ওঠে। ফিলিপাইন ছাড়াও শ্রীলংকার একটি ব্যাংকের মাধ্যমেও রিজার্ভের অর্থ চুরির চেষ্টা করা হয়। তবে হ্যাকিংকালে ভুল করায় অর্থ সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিয়ার রহমান। তারপর ফজলে কবির গভর্নর হয়ে চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা শুরু করেন।

জেড