ঝিনাইদহে শিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার ও তাকে আদালতে হাজির না করায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং অনতিবিলম্বে তার সন্ধান দাবী করে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, গত ১৩ই জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১২ সময় একটি কালো মাইক্রোবাস ও দুটি মটরসাইকেল যোগে শিবির নেতা শহিদ আল মামুদের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় তারা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার মা বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়ার সময় এক জনের পকেট থেকে সদর থানার ওসি’র ছবি সম্বলিত একটি ভিজিটিং কার্ড পড়ে যায়। এসময় উপস্থিত জনতা আরও দুইজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও চিনতে পারে।

তারা হলেন, এসআই আমিনুর ও এসআই উজ্জল। সেদিন একই গ্রাম থেকে লালটু ও সুজন নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে গত রাতে তাদেরকে চোখ বেধে মাঠের পাশে ফেলে গেলেও শিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার সন্ধানে থানায় বার বার যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করছেন এবং এখন পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন নিরাপরাধ ছাত্রকে, তার মা বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা পুলিশের কোন দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাছাড়া সাদা পোষাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা এবং গ্রেপ্তারের পর আদালতে না তোলা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। সম্প্রতি এ বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই গ্রেপ্তার ও অস্বীকারের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। স্বয়ং পুলিশ কর্তৃক এমন অস্বাভাবিক আচরণে আমাদের মনে নানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

তারা আরো বলেন, এর আগে ঝিনাইদহতেই অনেক ছাত্র-শিক্ষককে বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে রাতের আধাঁরে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে পুলিশ। আমরা মনে করছি, তার উপর জুলুম নির্যাতন চালানো অথবা কোন অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্যই বেআইনি ভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে হাজির করা হচ্ছেনা। এই অমানবিক আচরণে তার পরিবারের সাথে সাথে আমরাও গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, "কোন অভিযোগ ছাড়াই মা বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে একজন নিরপরাধ মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেপ্তারের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, তাকে নিয়ে কোন প্রকার নাটক ছাত্রশিবির মেনে নিবে না। অবিলম্বে আমরা গ্রেপ্তারকৃত শিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদের অবস্থান নিশ্চিত ও তাকে আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।"

এমআইএস