তৃতীয়বারের মতো কালবৈশাখী ঝড়ে রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মহানগর ও আশপাশের এলাকা।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার পর ঝড় শুরু হয়। ঝড় শুরুর পর থেকেই গোটা মহানগর এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগের প্রকৌশলী শামীম হোসেন জানান, বুধবার রাতে ঝড়ের তাণ্ডবে বিসিক শিল্প এলাকায় ট্রান্সফর্মার পড়ে যায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের উপর গাছ ও ডালপালা পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে গাছপালা সরিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে গোটা মহানগর এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, বুধবারের ঝড় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে মহানগরের উপর দিয়ে বয়ে যায়। এসময় বজ্র ও বজ্রসহ ১৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মহানগর এলাকায় শিলাবৃষ্টি না হলেও তানোর ও বাগমারা উপজেলার কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। তবে তা রেকর্ডে নেই।

এদিকে, বিদ্যুৎহীন নগরে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। রাতে ঝড়ো হাওয়ায় রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের একটি ফ্লাডলাইট পোস্ট পাশ্ববর্তী দোকানের উপর ভেঙে পড়ে। তবে ওই সময় দোকান বন্ধ থাকায় ক্ষয়-ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া নগরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছোট-বড় শিশুগাছ উপড়ে যায়।

কালবৈশাখীর আঘাতে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে গুটি আম ঝরে পড়েছে। কালবৈশাখীতে আমের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা না গেলেও এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার আম ব্যবসায়ী শামসুল হক জানান, কালবৈশাখীর আঘাতে আম ঝরে পড়ায় চরম লোকসান গুনতে হবে তাদের। গাছে যে পরিমাণ মুকুল ও গুটি এসেছিল তাতে অন্য বছরের লোকসান অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বুধবারের ঝড়ে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারও হাত নেই। তবে আম ঝরে যাওয়ায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের এবার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন জানান, উপজেলায় আম ছাড়া অন্যকিছুর তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ঝড়ের পর বৈদ্যুতিক গোলযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনিও।

রাজশাহী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম মুজিবুর রহমান জানান, বুধবার রাতে রাজশাহী শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তানোর, গোদাগাড়ী, বাগমারা, দুর্গাপুর উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসল ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে।

কেএইচ