যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিকফা) রয়েছে সেটাকে অর্থবহ করতে হলে জিএসপি ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
নতুবা নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য টিকফা বৈঠক অর্থবহ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদফতর/দপ্তর/সংস্থা প্রধানদের সঙ্গে তাদের স্ব স্ব সংস্থার বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত আলী ওয়ারেছি, অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক, ডব্লিউটিও) অমিতাভ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) জহির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর- এর আট সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মাইকেল জে ডিলানি।
বৈঠক প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তারা চট্টগ্রাম ইপিজেড সফর করেছেন, সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শ্রমিকরা জানিয়েছে তারা খুশী। এখন নিরাপত্তাজনিত কোন শঙ্কা নেই। এর আগে তারা যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নতির কথা স্বীকার করেছেন তারা।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউএসটিআর যে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল সেগুলোর অধিকাংশই আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি এটা তারা স্বীকার করেছেন। এর বেশি আমরা আর করতে পারবো না। আমি তাদের বলেছি জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া না-দেওয়া এখন তোমাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে টিকফা চুক্তি অর্থবহ করতে হলে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। নতুবা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় টিকফা বৈঠক অর্থবহ হবে না।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ৩৬৮৫টি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানার মধ্যে অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স এবং জাতীয় উদ্যোগ ৩৪০৭টি কারাখানা পরিদর্শন করেছে, এর মধ্যে মাত্র ৩৪টি কারখানায় সমস্যা ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানা গুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সেফটি ডোর শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন নিরাপদ পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখন আর অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স- এর কারখানা পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর জিএসপি দিতো না। প্লাস্টিক, টোবাকো, সিরামিক, টেবিল ওয়্যারেরমত কিছু আইটেমের ওপর জিএসপি দিতো। যার পরিমান বছরে ২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, এতে বাংলাদেশের তেমন আর্থিক ক্ষতি না হলেও ইমেজ সংকটের বিষয়।
ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে শর্তই ছিল যে এখানে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেওয়া হবে না। তারপরও আমরা এখানে বিনিয়োগকারীদের বুঝিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ সমিতি’ গঠন করেছি। এখন ইউএসটিআর-এর প্রতিনিধিরা চান যে, ইপিজেড-এ সবগুলো কারখানার ‘শ্রমিক কল্যাণ সমিতি’র সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ‘অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করা হোক। তাহলে কোন একটি কারখানায় সমস্যা দেখা দিলে অন্যরা সেটা জানতে পারবে।
ইতালি সফর প্রসঙ্গে বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের দশম সম্মেলনে বাংলাদেশ এবার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্র হিসেবে আমি এ দায়িত্ব পালন করবো। বাংলাদেশ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনে অংশ নেবে।
তিনি বলেন, আসন্ন এ সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হচ্ছে উন্নত দেশগুলোতে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার, রুল্স অব অরিজিন শিথিল করা, ট্রিপস-এর আওতায় ওষুধ শিল্পের মেধাস্বত্বের সময়সীমা বাড়ানো ও সেবাখাতে শুল্ক অব্যাহতি প্রদান।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’র (ডব্লিউটিও) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের দশম সম্মেলনের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে সম্প্রতি জেনেভাও সফর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ডব্লিউটিও সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের দশম সম্মেলন আগামী ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ থেকে এক কণ্ঠে কথা বলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তির ফলে কাজের গতি ও জবাবদিহিতা বাড়বে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করতে পারবো। কারণ তার সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি যে আমরা এসব কাজ করবো। প্রতি বছর আমাদের কাজের যে দক্ষতা ও সফলতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এর ব্যাখ্যা দিতে পারবো এবং তিনিও আমাদের কাজগুলো দেখে যে দায়িত্বগুলো আমাদের ওপর অর্পণ করেছেন সেগুলো মূল্যায়ন করতে পারবেন।
কেএইচ





