হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্যে এবং পল্লীর ভেতর অস্ত্র উদ্ধারে র্যাবের অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি। ইতিপূর্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় র্যাব বাদী হয়ে ৬টি মামলা করে। এ মামলাগুলো তদন্ত করছে থানা পুলিশ।
পুলিশ এসব কোনো মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি। এরই মধ্যে দুইটি মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি’তে পাঠানো হয়েছে।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ওসি অমুল্য কুমার চৌধুরী জানান, সাতছড়িতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে এ পর্যন্ত ৬টি মামলা হয়। দুইটি মামলা সিআইডি’তে পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলোও পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি শিগগিরই মামলাগুলো তাদের কাছে চলে যাবে।
তথ্যমতে ২০১৪ সালের ১ জুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে র্যাব অভিযান শুরু করে। এই এলাকা থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য একেবারেই কাছে। সর্বশেষ ১৩ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে র্যাব অভিযান পরিচালনা করে। তবে কোনো অস্ত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
এ সময় পল্লীর ভেতরে বগুড়ার কাহালু অস্ত্র উদ্ধার মামলার আসামি আশিষ দেব বর্মা’র ঘরের পাশে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায় র্যাবকে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্র রয়েছে কি-না অনুসন্ধান চালাতে আমরা এখানে এসেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাইনি।’
পল্লীর বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সূবর্ণা দেব বর্মা বলেন, ‘র্যাব এখানে এসেছে দেখেছি। তবে তারা কি করছে বলতে পারব না।’
পরিদর্শনকালে পল্লী’র বাসিন্দা কোনো পুরুষকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সূবর্ণা বলেন, ‘পুরুষরা কাজে রয়েছেন।’ দুপুরের দিকে র্যাব কয়েকটি গাড়িতে করে উদ্যানে আসে। পরে তারা গভীর বনে ও পল্লীতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
স্থানীয়রা বলেন, সিলেট র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য এ অভিযানে অংশ নেয়। এর আগে দুইটি বাঙ্কার থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়ারলেস ও ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে র্যাব।
১৭ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বাঙ্কারগুলো থেকে ৭.৬২ এমএম এর ৮ হাজার ৩৬০টি গুলি, ৭.৬২ থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ১৫২টি গুলি, নাইন এমএম পিস্তলের ৫১৭টি গুলি, ১২ .৭ এমএম মেশিনগানের ৪২৫টিসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৮০টি ম্যাগজিন। এর মধ্যে এমজি রাইফেলের ২টি, এসএমজির ২০টি, এসএলআর এর ৬টি, থ্রি নট থ্রি’র ৪টি, পিস্তলের ২৯টি, জি থ্রি রাইফেল ১২টি ম্যাগজিন রয়েছে।
এছাড়াও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়ারলেস সেট ৫টি ও রেডিও সেট ১টি পাওয়া যায়। ১১টি বাক্সের মধ্যে ৫টি বক্সে ১২.৭ এমএমের গুলি ও বাকি ৬টিতে ৭.৬২ এমএমের গুলি পাওয়া যায়।
র্যাব-৯ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদেরকে জানান, তারা ১৪ অক্টোবর থেকে এখানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪র্থ দফা অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে প্রথমে ৫টি গাড়ি যোগে র্যাব সদস্যরা উদ্যানে আসেন। তারা উদ্যানে প্রবেশ করে অভিযান চালান।
এর আগে ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে র্যাব একটি বাঙ্কার থেকে ৩টি মেশিনগান, ৪টি ব্যারেল, ৪টি ম্যাগজিন, একটি রেডিও সেট, গুলির চেইন উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানায় মামলা হয়েছে।
এর আগে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩য় দফায় র্যাব-৯ এর বোম্ব ডিসপোজাল দল এবং গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে ত্রিপুরা পল্লীর অজিত কুমার দেব বর্মার গোয়ালঘরে তৈরি একটি বাঙ্কারের মধ্যে থেকে ১৩টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। এ বস্তাগুলো খুলে পাওয়া যায় ৪০ মিলিমিটার রকেট ১১২টি ও ৪৮টি রকেটের চার্জার।
এর আগে দুই দফায় ২ সেপ্টেম্বর এ উদ্যানের গহিন অরণ্যে ২টি গর্ত থেকে ৯টি এসএমজি, ১টি এসএমসি, ১টি ব্যাটাগান, ১টি মিনি অটোরাইফেল, ৬টি এসএলআর, ২টি এলএমজি, ১টি স্নাইপার টেলিস্কোপ সাইড এবং ২৪শ’ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া প্রথম দফায় ১ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সাতছড়ি গহীন অরণ্যে ৭টি বাঙ্কার ও ত্রিপুরা পল্লীর ভেতরে ২টি বাঙ্কার থেকে দুই শতাধিক রকেট, ট্যাংক বিধ্বংসী বিস্ফোরক, রকেট লঞ্চার, দুই শতাধিক মর্টার শেল, রকেট লঞ্চারের চার্জার, অয়েলসহ বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র উদ্ধার করে র্যাুব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল। এ পর্যন্ত এসব অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৬টি মামলা হয়েছে।
জেআই





