সরকারের রাজস্বখাতে নিয়োগবঞ্চিত শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা গতকাল রোববার ৭ দিনের মত আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবেন।

অনশনে অংশগ্রণকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মিজানুর রহমান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে একটি ঘোষনার মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার সাথে সংযুক্তদেরকে শিক্ষাগত ও কাড়িগরি যোগ্যতার ভিত্তিতে অন্যান্য বিষয় শিথিল করে তাদের নিয়োগদানের আশ্বাস দেন।

এরপর রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রমার্জনায় এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী আদেশে সরকারের রাজস্বখাতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দুইধাপে ২০২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের ভাইভা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ ও ২ তারিখ সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজস্বখাতে নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর সরকারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অস্থায়ী কিংবা স্বেচ্ছাসেবী’র ভিত্তিতে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের তালিকা চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সেঅনুযায়ী সকল প্রতিষ্ঠান তালিকা প্রেরণ করেছিল। কিন্তু দুভাগ্যজনকভাবে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কর্মরত কেউই রাজস্বখাতে নিয়োগ পাননি। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে অনশেনে নামতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশণ অব্যাহত থাকবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় আছি।

এদিকে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে অনশন আন্দোলনের কারণে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা চরমভাবে বাধাগ্রস্থ হয়। এমতাবস্থায় রাজস্বখাতে নিয়োগের জন্য শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ অত্র হাসপাতালে কর্মরত অউটসোর্সিং/ সেচ্ছা শ্রম এর ভিত্তিতে তারিখে ১৩ জনের তালিকা ২৬ জুলাই ২০২০ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠায়, যার স্মারক নং- এসআরজিআইএইচ/প্রশাসন/২০১৯-২০২০/১৯৮৪ ও এসআরজিআইএইচ/প্রশাসন/২০১৯-২০২০/১৬৬৬ এবং এসআরজিআইএইচ/প্রশাসন/২০১৯-২০২০/১৬৬৭।

শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের অনশনের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে, কারণ হাসপাতালের ল্যাবরেটরীর কার্যক্রম সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে আইসিইউতে থাকা রোগীরা ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পরছেন। সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের রাজস্বখাতে নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতেরর মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।

আমরণ অনশনকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা জানান, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টেকনোলজিষ্টকে অত্র প্রতিষ্ঠানে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষার সাথে সংযুক্ত করেন। এছাড়া ডেগু শনাক্তকরণে এই প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে থাকলেও ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে কোন রাজ্স্বখাতভূক্ত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) কর্মরত নেই।

আন্দোলনকারীরা জানান, করোনা মহামারী চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে একমাত্র প্রথম ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রেলিভার ইনিস্টিটিউটকে ঘোষণা করে। অথচ যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাপ্তাহিক কিংবা আইসোলেশন ছুটি বাদ দিয়ে সপ্তাহে সাতদিন কর্মস্থলে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তারাই আজ নিয়োগ বঞ্চিত! চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করতে গিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের ২ জনসহ তাদের পরিবারের ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মিজানুর রহমান।

সরকারের রাজস্বখাতে নিয়োগবঞ্চিত শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা গতকাল রোববার ৭ দিনের মত আমরণ অনশন করে।

এএস