বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুননির্মাণ না করায় আতংক-উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের আড়াই লাখ মানুষের। গতবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনে রৌহাদহ বাজারসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৭শ’ মিটার বাঁধ যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধভাঙ্গা বন্যার পানিতে সারিয়াকান্দি, ধুনট,গাবতলী, শাহজাহানপুর ও বগুড়া উপজেলার ২২ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে বিনষ্ট হয়। ছোট-বড় ব্রিজ-কালভার্ট ও কয়েক কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক স্রোতের তোড়ে বিধ্বস্ত হয়।

গত তিন বছরে যমুনার ভাঙ্গনে চন্দনবাইশা বাজারের দু’শতাধিক দোকানপাট, কয়েক হাজার বসতবাড়ি, ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যমুনার গর্ভে বিলীন হয়। একই সময়ে ভাঙ্গন রোধে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চন্দনবাইশা স্পার ও ২ হাজার মিটার নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধও বিধ্বস্ত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যমুনার করাল গ্রাস থেকে জনপদ রক্ষাকল্পে চন্দনবাইশা বাজার ভেঙ্গে যাওয়ার পর পরই নদী তীর সংরক্ষণ কাজের জন্য একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব (ডিপিপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছরেও ডিপিপিটি অনুমোদন হয়নি।

এদিকে গতবছর যমুনার ভাঙ্গনে আবারো রৌহাদহ বাজারের শতাধিক দোকানপাটসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেবডাঙ্গা থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য ৩২৪ কোটি টাকার ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কিন্তু এখনও অনুমোদন হয়নি।

চন্দনবাইশা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্ জিহাদুল ইসলাম জিহাদ জানান, নদী ভাঙ্গন রোধ এবং বাঁধ নির্মাণ করতে না পারলে আবারো গতবছরের মত জনপদের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, বাঁধ করতে না পারলে শুধু সারিয়াকান্দি উপজেলা নয় পার্শ্ববর্তী ৪/৫ টি উপজেলার ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, ৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে নৌ-বাহিনীকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই তারা কাজ শুরু করবে। তীর সংরক্ষণ কাজের ডিপিপি একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যমুনা পাড়ের পোড় খাওয়া মানুষের অভিমত প্রকল্প অনুমোদন হলেও চলতি বছর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঠিকাদার নিয়োগ সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, যমুনার ভাঙ্গন থেকে জনপদ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জেআই