কক্সবাজারের উখিয়ার মরিচ্যা এলাকায় কিশোরী ছাত্রীর বাল্য বিয়ে নিয়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই প্রবাসী হবু কন্যা জামাইকে বরণ করে নিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কনের পরিবার।

উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম পালং গ্রামের টিটু বড়ুয়ার কিশোরী কন্যা বৃষ্টি বড়ুয়া (১৫) মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের আসন্ন জেএসসি ফলপ্রার্থী ছাত্রী।

অন্য দশজন ছাত্রীর মতো বৃষ্টিকে যেখানে বই খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়ালেখার কথা নিয়ে আঙ্গিনায় সময় কাটানোর কথা, সেখানে কিশোর বয়সে মা- বাবার চাপের কারণে বসতে হচ্ছে বিয়ের পিঁড়িতে।

জানাযায়, বৃষ্টি বড়ুয়া (১৫) সদ্য অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। তার জেএসসি রোল ২৪০০৫২ রেজিঃ নং-১৫১৪৯৩০৬২০।

সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ডিসেম্বর তার ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্য্যালয়ের রেজিঃ বহি অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ৫ জুলাই ২০০০ ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ২০০০২২১৯৪১৫০২৬৮১২, বহি নং-৬।

সবে মাত্র তার বয়স এখনো ১৫ বছর ৭ মাস ১১দিন (২০১৬সালের ১৬ জানুয়ারী বিয়ের দিন পর্যন্ত)। অপরদিকে রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং গ্রামের বড়ুয়া ও পারুলি বড়ুয়ার দুবাই প্রাবাসী পুত্র আপন বড়ুয়ার সাথে বৃষ্টির বিয়ের দিন ধার্য্য করা হয়েছে আগামী ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারী অর্থাৎ বাংলা মাঘ মাসের ২ তারিখ।

যেখানে বৃষ্টিকে বই, খাতা, কলম নিয়ে স্কুলের মাঠে সহপাঠিদের সাথে ছোটাছুটি করার কথা সেখানে অল্প বয়সে অবুঝ এ কিশোরীকে মা-বাবার বাধ্য করা হবু স্বামীর সাথে সংসারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে কান্না জড়িত কন্ঠে কিশোর ছাত্রী বৃষ্টি বড়ুয়া জানান, আমি পড়তে চাই, বাবা-মা আমাকে কিশোর বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসতে বাধ্য করছে। আমি এ বিয়ে বন্ধের জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।

জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মাজেদ জানান, বৃষ্টি আমাদের স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর (জেএসসি) ফল প্রার্থী মেধাবী ছাত্রী। তার অকাল বাল্য বিয়ে কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি এ বিষয়টি কারো নিকট থেকে শুনেনি বলে জানান। এলাকার সচেতন মহল কিশোর ছাত্রীর বাল্য বিবাহ বন্ধের জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন।

এসএইচ