ধানের ন্যায্য মূল্যে দাবিতে রংপুরে আন্দোলনে নেমেছে কৃষকরা। বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে মহাসড়কে ধান ফেলে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভসহ আন্দোলন করছে। তাদের একটাই দাবি ভারত থেকে ধান চাল আমদানি বন্ধ করে দেশের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য দিয়ে কৃষক বাচাঁতে হবে।

সারা দেশের তুলনায় রংপুরে বোরো ধান কাটা হয় অনেটা পরে। রংপুরে চলতি মৌসুমে ১লাখ ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, এক মন ধান ফলাতে যেখানে খরচ পড়েছে ৭ থেকে সাড়ে ৭শ টাকা। সেখানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪শ টাকা। ধার দেনা করে ধান চাষ করে একদিকে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না অন্যদিকে পাওনাদারের অত্যাচারে বেসামাল হয়ে পড়েছেন। এমনি অবস্থায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা এবার আন্দোলনে নেমেছেন। চলছে মহাসড়ক অবরোধ করে ধান ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ অবস্থান।

কৃষক আন্দোলনের নেতা করিম মিয়া বলেন, সরকারের উদাসীনতার ফলে দেশের কৃষকরা আজ পথে বসতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের দেশে এ বছর বিপুল পরিমাণ বোরো ধানের ফলন হয়েছে এতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আগামী বছরের মজুদ রাখা সম্ভব, কিন্তু সরকার তা না করে ভারত থেকে চাল ও ধান আমদানি করছে। ভারত থেকে চাল ধান আমদানি বন্ধ করে সরকারিভাবে দেশের কৃষকের উৎপাদিত ধান কেনা শুরু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। নতুবা রংপুর বিভাগের সকল কৃষদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার এবার রংপুরে ধানের উৎপাদন বেশি এবং ধানের দাম অপেক্ষকৃত অনেক কম থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ধান এখনই বিক্রি না করে বাড়িতে অন্তত ৩ মাস রাখার পরামর্শ দেন।

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচাতে জরুরিভিত্তিতে সরাসরি তাদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু করলে কিছুটা হলেও কৃষকরা তাদের ধানের মূল্য পেতে পারে বলে কৃষক ও খোদ কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তা না হলে ধান চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে কৃষকরা।

জেআই