সীমিত জ্ঞান ও আর্থিক সহায়তার অভাবে আমাদের দেশের কৃষকরা পশুস্বাস্থ্য বিষয়ে তেমন সচেতন নয়। অসুস্থ্য পশুর সংস্পর্শে এসে কৃষকরা যেমন নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে তেমনি সেসব পশুদের মাংস খেয়ে ভোক্তারাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ছোট হলরুমে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ‘এক স্বাস্থ্য আন্দোলন: স্বাস্থ্যকর খাদ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উপায়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক জাহেদুর রহমান।

জাহেদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। গৃহপালিত পশু-পাখিকে কেন্দ্র করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। পশু-পাখির নিরাপদ খাদ্য, সুচিকিৎসা ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় সীমিত জ্ঞান এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাবে তারা খুবই বিপর্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামে পশু চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সীমিত। এছাড়া পশু-পাখি, মাছের খাবারেও নানাবিধ রাসায়নিক পদার্থের দৌরাত্ব দেখা যাচ্ছে। রুগ্ন ও অসুস্থ পশু-পাখিদের সংস্পর্শে থেকে কৃষকরা নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার এসব রোগাক্রান্ত মাছসহ পশু-পাখির মাংস খেয়ে সারাদেশের মানুষ  স্বাস্থ্যহীন খাবারের বিড়ম্বনায় ভুগছে।’

এসব অসতর্কতার কারণে মানুষ ম্যাড কাউ, এ্যানথ্রাক্স, নিপা ভাইরাস, মার্কস করোনা ভাইরাস, এবোলা, এ্যাভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লুসহ গৃহপালিত পশু-পাখির বিভিন্ন জীবানু ও ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমনের আশঙ্কায় আছে বলেও জানান তিনি।

তাই কৃষকস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে ভোক্তার কাছে এসব নিরাপদ প্রাণীজ খাবার পৌঁছানোর লক্ষ্যে পশু-পাখি ও মাছসহ প্রতিটি প্রাণীর নিরাপদ খাবার ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি বলেও মন্তব্য জানান তিনি।

জাহেদুর রহমান আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য আন্দোলন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সহজেই এর সমাধান পেতে পারি। এজন্য চিকিৎসক, পশু চিকিৎসক, কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ এবং এর সাথে জড়িত বিজ্ঞানী ও সর্বসাধারণের এক সাথে কাজ করা উচিৎ।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, বাপার যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মহিদুল হক খান, এফএও-এর কর্মকর্তা আবুল কালাম প্রমুখ।

জেআই