২০১৫ সালের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রায় দুই হাজার পরীক্ষার্থী এখনও প্রবেশ পত্র পাননি। পরীক্ষা অংশগ্রহণে তাদের অনিশ্চয়তা দেখা গিয়াছে। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শতাধিক পরীক্ষার্থী মানববন্ধন থেকে এই অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, '১৫ সালের নিবন্ধন পরীক্ষায় আমরা প্রিলিতে উত্তীর্ণ হয়েছি। লিখিত পরীক্ষায় ডাকযোগে পাঠানো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পৌছার অজুহাতে আমাদের বহিস্কার করা হয়েছে। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ অসৎ উপায়ে লোক নিতে এসব করছে। তাই আমাদের হাতে প্রবেশপত্র পাওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

শিক্ষার্থীরা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের নিবন্ধনে প্রিলিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ বঞ্চিত হলো প্রায় ২ হাজার ছাত্র-ছাত্রী। পূর্ববর্তী পরীক্ষা সমূহে ২ ঘণ্টার প্রিলি এবং লিখিত পরিক্ষা একসাথে নেয়া হলেও এবারই প্রথম বারের মত আলাদা আলাদা ভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে এনটিআরসিএ।

নিয়মানুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ডাকযোগে পাঠানোর কথা এবং কোন ধরণের কুরিয়ার, ডাকরেজিট্রি বা হাতে হাতে জমা দেয়া যাবে না। যদিও পূর্ববর্তী সময়ে অনলাইনে বা নিজের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া যেত এবং বিশেষ কারণে নির্দষ্ট সময়ে কেউ বাদ পড়লে পরবর্তীতে দু’দিন সময় অতিরিক্ত দেয়া থাকত যাতে সে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিজের উপস্থিতিতে জমা দিতে পারতেন।

ঢাকা কলেজ থেকে আসা আবির, সোলাইমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে আসা রেখা ইয়াসমিন, ইডেন মহিলা কলেজ থেকে আসা নূরুন্নাহার, বাংলা কলেজ থেকে আসা মো. উসমানসহ আরো অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী জানান, কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলেছে আমরা সেভাবেই পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন বলছে তারা নাকি পায়নি। এটা আমাদের দোষ নাকি তাদের অবহেলা। তারা তো আমাদের জীবন নিয়ে খেলতে পারে না। এখন ২৯ তারিখ পরীক্ষা। এখনও প্রবেশপত্র পাওয়ার কোন আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না।

নিবন্ধন পরীক্ষা আগামীতে পিএসসির অধীনে নেয়ারও আহবান জানান আন্দোলনকারীরা। কারণ হিসেবে তারা বলেন, এখানে টাকার বিনিময়ে অনেক কিছু সম্ভব হয়, সেসব অসৎ লোকদের হাত থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের নিবন্ধন পরীক্ষা পিএসসির অধীনে নিলে রেহাই পাওয়া যাবে।

কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা কলেজের ছাত্র নিয়ামুল হক বলেন, আমরা লিফট এর ৫ এ গিয়ে নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের সাথে খুবই বাজে আচরণ করেন এবং কোন ধরণের কাগজ আদৌ পাননি বলে জানান। আর তিনি আমাদেরকে পুলিশ দিয়ে নায়েম ভবন থেকে নামিয়ে দেন।

মানববন্ধনে কিশোরগঞ্জ থেকে আসা অভিবাবক মাহবুবুল হক বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খেল তামাশা করা হচ্ছে, তারা খেল তামাশার পাত্র নয়। দেশে এতো উন্নত প্রযুক্তি থাকতে আপনারা কেন ডাক যোগের মান্ধাতার আমালের পদ্ধতি বেছে নিলেন। তারা প্রিলিতে পাশ করেছে, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র কেন দিবে না। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা হাইকোর্টের দারস্থ হবো।

এমএ/ এসএইচ/ এআর