আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচারের আহ্বায়ক ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, “অনেকে সরকার কর্তৃক জুম্মার খুৎবা নজরদারি নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকার শুধু পর্যবেক্ষণ করবে, জুম্মার খুৎবায় কেউ জঙ্গীবাদমূলক উস্কানী দিয়ে কোনো কথা বলে কিনা। নিয়ন্ত্রণ নয় আমরা শুধু খুৎবাকে পর্যবেক্ষণ করতে চাই। তাই এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। ”

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

দেশে সকল জঙ্গীবাদের গোড়া জামায়াত বলে মন্তব্য করে শাজাহান খান বলেন, “নিত্য-নতুন নাশকতা জামায়াতের রণকৌশল। নতুন নতুন নামে স্বাধীনতা বিরোধী এই দলটি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। ”

“আমেরিকাসহ দেশি বিদেশি অপশক্তিরা বাংলাদেশে আইএস ও আল কায়েদা আছে এটা প্রমাণ করতে চায়। এ বিষয়ে সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে তা ঠিক আছে। কারণ ধর্মের নামে সন্ত্রাসী হামলাকারীরা আইএস বা আল-কায়েদা হলে ওরা আত্মঘাতি হামলা করতো, নয়তো ধরে নিয়ে গিয়ে শিরচ্ছেদ করতো। কিন্তু বাংলাদেশে এসব কিছুই নেই। বরং এরা হলো জাময়াত শিবিরের রগ কাটা রাজনীতির নয়া সংস্করণ। ”

নৌমন্ত্রী বলেন,“আমরা ধর্মকে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং প্রকৃত ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবে কেনো মওদূদীবাদ বা জঙ্গীবাদী ইসলাম প্রতীষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। ”

সংবাদ সম্মেলনে সকল জঙ্গী অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচী ঘোষণা করেন শাজাহান খান।

কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ১৯ জুলাই থেকে তিন মাস ব্যাপী ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ের সকল শ্রেনীপেশার মানুষের সাথে মত বিনিময় করবে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার ও শ্রম কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ গণ বিচার আন্দোলন।

লিখিত বক্তব্যে শাজাহান খান বলেন, “৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই মার্তৃভূমিকে কখনই ধর্মান্ধ খুনী স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে জিম্মি হতে দিবো না। আমরা মুক্তিযোদ্ধা এবং আমাদের ধমনীতে প্রবহমান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত। আমারা দেশের সকল শান্তিকামী মানুষ্কে সঙ্গে নিয়ে এই জঙ্গী অপশক্তির বিরুদ্ধে দূর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই এবং পবিত্র মাটি থেকে তাদের চিরতরে উচ্ছেদ করতে আমারা বদ্ধ পরিকর।”

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠেনের সদস্য সচিব ওসমান আলী, সংগঠনের নেতা ইসমত কাদের গামা, নাট্যব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ।

ইআর/এসএম