রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মৌলবাদ কিংবা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় সম্মেলন শেষে শুক্রবার নয়াদিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসএফ প্রধান কে. কে. শর্মা দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় ১৪০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে উল্লেখ করে। সেসব স্থানে সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পিলার সংস্কারে শিগগিরই দুই দেশ যৌথভাবে কাজ শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদেরকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতীয় অবস্থানের বিষয়ে কিছু না বললেও বাংলাদেশে চলমান শরণার্থী সঙ্কট সমাধানে নয়াদিল্লির সহযোগিতা কামনা করেন শহীদুল হক।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, 'আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, বাংলাদেশে চলমান শরণার্থী সঙ্কটের জন্য মিয়ানমারই দায়ী, আর তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। আমরা তাদেরকে সাধ্যমত সহযোগিতা করবো। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে দেওয়াটা কোনো সমাধান নয়। যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাই। আশা করি, এই ইস্যুতে আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবো।'

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মহাপরিচালক কে. কে. শর্মা বলেন, 'রোহিঙ্গারা যাতে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় আমরা কিছু অরক্ষিত স্থান শনাক্ত করেছি। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।'

এএস