সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি নজরদারি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি এবং গোপন সেল গড়ে তোলার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সংগঠনটি একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপান্তরিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, বড় কোনো একক ইউনিটে না থেকে আল কায়দার সদস্যরা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। এর পাশাপাশি সংগঠনটি বাংলাদেশে শক্তিশালী লজিস্টিক সহায়তা ও নিজস্ব অর্থায়নের গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলেও আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সরকারের কড়া জবাব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

জাতিসংঘের এই উদ্বেগকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "বাংলাদেশে আল কায়দার সম্প্রসারণ কিংবা গোপন ঘাঁটি তৈরির খবরটি একেবারেই অনুমাননির্ভর ও কাল্পনিক। এই ধরণের রিপোর্টের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, ফলে সরকার এটিকে কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছে না।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে চলেছে। দেশের ভেতরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উগ্রবাদী অপতৎপরতা রুখে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে আল কায়দার মতো কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সাংগঠনিক কাঠামো বা তৎপরতা নেই বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই বিষয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ও অভিযোগগুলো প্রথাগত ও নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, দেশের সার্বিক গোয়েন্দা নজরদারি অত্যন্ত জোরদার। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের যেকোনো প্রান্তে উগ্রবাদী শক্তির সামান্যতম উত্থানের আভাস পেলেও অভিযান চালিয়ে তা নস্যাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন করে আল কায়দার ভিত্তি স্থাপন কিংবা অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরির যে কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে সরকারের বার্তা হলো, কোনো ভিত্তিহীন বা অনুমানের ওপর রচিত প্রতিবেদন প্রকাশ না করে বস্তুনিষ্ঠ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আলাপ করা উচিত। বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।

এমএম