ঝালকাঠি নলছিটিতে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে পিতা, মাতা ও ভাইকে বেঁধে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এ নারকীয় ঘটনা ঘটায় দুস্কৃতকারীরা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গৃহীত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে ১১ তারিখ পর্যন্ত পেছানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ এ বিষয়ে নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো: নাসির উদ্দিন জানায়,৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পরের দিন পুলিশ প্রথমে ডাকাতী ও ধর্ষণ মামলা না নিয়ে কৌশলে দস্যুতা অভিযোগে এজাহার নং-৭ রেকর্ড করে।

পরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা,প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সাংবাদিকের প্রতিবাদের মুখে ৬ সেপ্টেম্বর ডাকাতী ও ধর্ষণ মামলা রুজু করে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান খান বলেন,ঘটনার প্রতিবাদে আমরা পরের দিন ৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির মিটিংয়ে সমস্ত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিবাদ ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে ০৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন ও স্মারকলীপি প্রদান কর্মসূচী গ্রহণ করে ছিলাম। কিন্তু থানার ওসি আবুল খায়েরের অনুরোধ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শের প্রেক্ষিতে দু'দিনের জন্য কর্মসূচী পেছানো হয়েছে।

ধর্ষিতার পিতা বেলায়েত কাজী ও পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সিঁদ কেটে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ঘরে প্রবেশ করে বেলায়েত কাজী,তার স্ত্রী ও পুত্র কে মারধর করে বেধে রাখে।

এসময় দুর্বৃত্তরা তার মেয়ে নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী (১৫) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ সময় ধ্বস্তাধ্বস্তির এক পর্যায়ে মুখ থেকে কাপড় খুলে প্রধান ধর্ষক মল্লিকপুর গ্রামের হাবিব হাং এর বখাটে পুত্র রায়হানকে (২০) কে তারা চিনে ফেলে।

ঘটনার পরের দিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত প্রধান ধর্ষক রায়হানকে স্থানীয় আ’লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস লস্করকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থল থেকে ও তার স্বাকারোক্তি অনুযায়ী মল্লিকপুর গ্রামের কালুর পুত্র সুমনকে (২১) কে গ্রেফতার করে।

এব্যাপারে নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জানিয়েছেন, পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ধর্ষিতা পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী প্রধান ধর্ষণকারী রায়হান ও সুমন নামে ২জনকে আটক করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদের রায়হান অকপটে ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তারা ১০ বন্ধু পরিকল্পনা করে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

৭ জুলাই রবিবার ধর্ষিতার ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ ও ডাক্তারী পরীক্ষাসম্পন্ন হয়েছে। শীগ্রই বাকী আসামিদের গ্রেফতারকরা সম্ভব হবে বলে জানানতিনি।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর