আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে এই বছর জমাদিউস সানী মাসটি ৩০ দিন পূর্ণ হবে।

আগামী শনিবার (০৯ মার্চ) পবিত্র রজব মাস শুরু হবে। সে হিসেবে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে আগামী ৩ এপ্রিল (বুধবার) দিবাগত রাতে।

আজ (০৭ মার্চ) বৃহস্পতিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ফারসি ‘শব’এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’এর অর্থ- উর্ধ্বারোহণ।  বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা:)’র নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে এই রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ।

মুসলিম বিশ্বের কাছে এই রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দিনভর নফল রোজা রাখা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবে মিরাজ পালন করেন।

নবুওয়াতের দশম বছর ৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রজব দিবাগত রাতে মহানবী (সা:) আল্লাহর সান্নিধ্যে লাভে মিরাজ গমন করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ঈসরাইল ও সূরা নজমের আয়াতে, তাফসিরে এবং সব হাদিস গ্রন্থে মিরাজের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

পবিত্র এই রাতে হযরত জিবরাঈল (আ:)’র সাথে নবীজী প্রথমে বায়তুল্লাহ শরীফ থেকে বোরাকে চড়ে বায়তুল মুকাদ্দাস গমন করেন। সেখানে হযরত আদম (আ:) সহ অন্যান্য নবীদের নিয়ে মহানবী (সা:) দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি এই রাতেই সপ্তম আকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন। এরপর রফরফ নামক বাহনে চড়ে আল্লাহ প্রিয় হাবিব মহান প্রভুর অনুগ্রহে আরশে আজিমে পৌঁছেন।

আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ ও সরাসরি কথোপকথন শেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন বিশ্বনবী।

আমাদের দেশে শবে মেরাজের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এদিন ঐচ্ছিক ছুটি। ফারসি ‘শব’এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’এর অর্থ- উর্ধ্বারোহণ। এই বছর সেই রাতটি পড়েছে আগামী ৩ এপ্রিল।

এমবি