ভোলায় অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে ঝাটকা শিকারের মহোৎসব চলছে। আর এ বিষয়ে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫০ মৎস্য ঘাটে প্রতিদিন শত শত অবৈধ কারেন্ট জাল নিয়ে জেলেরা নদীতে জাটকা শিকার করছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সব কারেন্ট জালের ট্রলার থেকে প্রতি মাসে প্রশাসনকে নির্ধারিত হারে চাঁদা দেওয়া হয়।

সরকার কারেন্ট জালকে অবৈধ ঘোষণা করে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও প্রতি বছরের মতো এবারও ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরার প্রায় ৫০টি মৎস্য ঘাটে অন্তত ৫ শতাধিক অবৈধ কারেন্ট জাল নিয়ে জেলেরা নদীতে মাছ ধরছে। এ সব কারেন্ট জালের ট্রলার মালিক ও আড়তদাররা প্রতি মাসে নির্ধারিত চাঁদার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে। এ জন্য পুলিশ-কোস্টগার্ড ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মাসোয়ারা আদায় করছে বলে জেলেরা অভিযোগ করেছেন।

নিয়মিত মাসোয়ারা না পেলে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযানে নামলেও মাসোয়ারা তালিকাভুক্ত জেলেদের বাদ দিয়ে কিছু কারেন্ট জাল আটক করে। টাকার বিনিময়ে পড়ে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য ঘাটের আড়তদার মোহাম্মদ তয়েব তালুকদার জানান, প্রতি মাসে প্রশাসনকে টাকা দিয়ে জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করে।

বোরহানউদ্দিনের মির্জাকালু মৎস্য ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম কবির জানান, প্রতি বছর মাছের মৌসুমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে যায়। কোনো মাসে টাকা না পেলে জাল ও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মেঘনা-তেঁতুলিয়ার একাধিক জেলে জানান, প্রতি মাসে টাকা না পেলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নদীতে এসে জাল, নৌকা, মাছ ও জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। আবার মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনতে হয়।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রতিষ কুমার জানান, কারেন্ট জাল দিয়ে নদীতে মৎস্য শিকারে কোনো মৎস্য কর্মকর্তা জেলেদের সহযোগিতা করে না। জেলেদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। জেলেদের এমন অভিযোগ মিথ্যা।

ভোলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। এ বিষয়ে আড়তদার বা জেলেরা কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আড়তদার ও জেলেদের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগটি যদি প্রমাণিত হয় তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেআই