কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনসহ যাত্রী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই মহাসড়কের প্রায় ২৪ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে পাথর উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সুত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর রেলগেট থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ২৪ কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করার জন্য ২০১৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাত কোটি আট লাখ টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় সিলেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল এন্টারপ্রাইজ।
গত বছরের ৩ মার্চ কাজ শুরু হয়। দরপত্র অনুযায়ী একই বছরের ২১ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে তড়িঘড়ি করে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করা হয়। এর মধ্যে ঠিকাদার প্রায় ছয় কোটি টাকা তুলে নেন। প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সওজের কর্মকর্তাদের দাবি, মহাসড়ক সংস্কারের শিডিউলেওভার লের (বিদ্যমান সড়কের ওপর পাথর-বিটুমিনের আস্তরণ) জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। এটা না করলে সড়ক টিকবে না। আর এ জন্য দরকার বড় প্রকল্প।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মজমপুর, বিসিক এলাকা, চৌড়হাস, ভাদালিয়া, আলামপুর, বৃত্তিপাড়া ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় মহাসড়কের কিনারে ও মাঝখানের পাথর-পিচ উঠে গেছে। সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এসব পিচ-পাথর। এসব এলাকার সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। স্থানীয় বটতৈল এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দীন বলেন, কোনো রকম গোঁজামিল দিয়ে কাজ করে ঠিকাদার চলে গেছেন।
কয়েক দিন পরই সড়ক আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, রাস্তা দিয়ে চলা দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তা ভাঙ্গা চোরা হওয়ার কারনে কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে যেতে অন্তত এক ঘন্টা বেশী লাগে। কুষ্টিয়ার একজন পরিবহন মালিক বলেন, সড়কটির সংস্কারের জন্য আমাদের অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম পর্যন্ত করতে হয়েছে।
অথচ কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এলাকাবাসী, চালক ও যাত্রীরা বলছে, গোঁজামিল দিয়ে সংস্কার করায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বৃষ্টির পানি জমতেই রাস্তার বেহাল অবস্থা। সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের দুর্ণীতির কারনে টাকার অপচয় হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যোগোযোগর একমাত্র এই মহাসড়ক জুড়ে গর্ত ও খানাখন্দ হওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই তাদের। অবিলম্বে এসমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি তাদের। কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপুরদর্শক (এসআই) সুমন বলেন, সড়কের অবস্থা অনেকটাই খারাপ। এতে দুর্ঘটনা, যানবাহন বিকলসহ নানা বিড়ম্বনায় আমাদেরর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দেব দয়াল বলেন, কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় সড়ক নরম হয়ে গেছে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে গোয়ালন্দফেরিঘাট বন্ধ থাকায় খুলনা ও বরিশালের সব যানবাহন এই পথে চলাচল করছে। এতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বড় ধরনের প্রকল্প নিয়ে কাজ না করলে এই সড়ক টেকানো সম্ভব হবে না।
আগামী বছরের মধ্যে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে সড়কের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ)’র উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ মিয়া বলেন, গর্ত ভরাটে কাজ চলছে। তবে এটা সাময়িক ব্যবস্থা। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবস্থা নিতে নতুন প্রকল্পের বিকল্প নেই।





