ভোক্তা অধিকার আইনে কোন ব্যক্তি কোন আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত বাধ্য বাধকতা অমান্য করে তার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সহজে দৃশ্যমান কোন স্থানে পণ্যের মূল্যের তালিকা লটকিয়ে প্রদর্শন না করে থাকলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড,বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এমন কথা লিখা থাকলেও বাস্তবে তার কোন কার্যকারিতা ও প্রয়োগ নেই। দেখা গেছে নামে মাত্র দু’একটি দোকানে মূল্য তালিকা থাকলেও ব্যবসায়ীরা এসব বিধান মানছেন না।
আর রাজধানীর বাজারে আপাত কাচাঁ তরকারীর মূল্যও কমছেনা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসে এমনটাই মনে হল। আর যে সব নিত্যপণ্য আমদানি নির্ভর সে সবের মূল্য আরো বেশী। যেমন ধরতে পারেন পিয়াঁজ, রমজানে কেজি প্রতি যার মূ্ল্য ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, এখন সে পিয়াঁজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ ও ৯০ টাকা। আদার মূল্য আরো বেশী কেজি প্রতি ১৪০ টাকা। রসুঁন দেশী ৮০ টাকা আর ইন্ডিয়ান ১২০ টাকা।
রাজধানীর বাজারে শীতের সবজি হিসেবে পাতাকপি আর ফুলকফির খ্যাতি থাকলেও বর্ষা মৌসুমেও তার প্রবেশ দিনকে দিন বাড়ছে। এসব সবজির স্বাদ নিতে চাইলে আপনাকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে। প্রত্যেকটি ফুলকপির জন্য আপনাকে ৩০ টাকা আর পাতাকপির জন্য ৪০ টাকা দিতে হবে।
মৌসুমি সবজি থেকে আরো অনেক কিছু বাদ পড়তে যাচ্ছে। তার মধ্যে বেগুন বাদ পড়েছে আরো অনেক আগেই, শহর কি গ্রাম, সবখানেই আপনার বেগুনের দেখা মিলবে বছরের যে কোন সময়। মৌসুমে তার মূল্য একটু কম থাকলেও এখন সে বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকায়।
শাকের মধ্যে লালশাক আটি প্রতি ১০-১৫ টাকা। বড় ডাটা আটি প্রতি ২০ টাকা। আর কলমিশাক আটি প্রতি ৫ টাকা। পুঁদিনা পাতা আটি প্রতি ১০ ও ২০ টাকা। পুঁইশাকের আটি প্রতি মূল্য আগের মতই রয়েছে, ২০ টাকা। থানকুনিপাতা অনেকে ভেষজ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করলেও বেগুনকে কুচিকুচি করে থানকুনিপাতার সাথে ব্যবহার করে শাক হিসেবে রান্না করেন অনেকেই, কিনতে চাইলে আপনাকে আটি প্রতি ২০টাকা গুনতে হবে।
নিত্য দিনের সবজির মধ্যে করলা, পটল, ছড়াকঁচু, ঝিঙ্গা, ওলকচুঁ কেজি প্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেড়ঁশ কেজি প্রতি ৬০ টাকা আর টমেটো কেজি প্রতি ৮০ টাকা।
পানিকচুঁ প্রতিটি ৬০ টাকা। আলু কেজিপ্রতি জাত ভেদে ২০, ২৫ ও ৩০টাকা। চিচিঙ্গা, ধুন্দল ৪০ টাকা। শিম প্রতি কেজি ৮০-৯০টাকা। বরবটি ৬০ টাকা।
ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকায় মাংশের মূল্য ও আপাত কমছে না, কেজি প্রতি ৩৮০ টাকা-৪০০ টাকা। ব্রয়লার কেজি প্রতি ১৬০ টাকা।
নিউমার্কেট বাজারের সবজি দোকানি খাইরুলের কাছে সবজির দাম দরের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে টাইমনিউজকে খাইরুল জানালেন, আপাতত সবজির মূল্য কমার কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হওয়াতে প্রচুর পরিমাণ সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, আর এখন কিছু সবজি পাওয়া গেলেও সব ধরণের সবজি অন্যান্য মৌসূমের মত মিলছে না।
উৎপাদন খরচ আর ট্রান্সর্পোট খরচ সব মিলিয়ে সবজির মূল্য বেশি পড়ছে। বৃষ্টির কারণে ও সবজি বেশি দিন রাখা যায় না বলে জানালেন খাইরুল।
হাতিরপুল বাজারে আসা শরীফের কাছে বাজার মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে শরীফ টাইমনিউজকে জানালেন, আমাদের দেশে ফুটপাত থেকে শুরু করে এমন কোন বিষয় নেই যে বিষয়ে আইন নেই, কিক্ত প্রয়োগটা কোথায়...? মাঝে মাঝে যখন ভ্রাম্যমান আদালত আসে, অল্প সময়ের জন্য সব ঠিক থাকলেও আবার যেই লাউ সেই কদু।
শরীফ বলেন, যে সকল অধিক মোনাফালোভী দোকানদার ক্রেতাদের জিম্মী করে রেখেছে, তাদের নগদ পানিশমেন্ট রাখা দরকার।
আপনি একজন ভোক্তা হিসেবে আপনারও অধিকার আছে, প্রকৃতপণ্যটি সঠিক দামে হাতে পাওয়ার, এমন কথার জবাবে শরীফ বললেন, ভোক্তা অধিকার আইন আজ ভোতা আইনে পরিণত হয়েছে আমাদের দেশে।
যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের পার্শবর্তী দেশ সমূহের মত ভোক্তা অধিকার আইনের প্রয়োগ থাকে, তাহলে কোন দোকানদার ক্রেতাকে ঠকাতে পারবে না এবং সে নির্ঘাত সোজা না হয়ে পারবে না।
ক্রেতা সাধারণ মনে করছেন, পাইকারী বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খোচরা বাজারে মূল্য নির্ধারণ উচিত, এবং প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা থাকা বাধ্যতামূলক করা হলে মোটামুটি একটা নির্দিষ্ট দামে ক্রেতারা সবজিসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে পারবে।
এমএ/এসএইচ





