সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কমতি না থাকলেও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় বর্তমানে নেই কোনো পর্যটক। সব কিছু স্থবির করে দিয়েছে হরতাল, অবরোধ ও দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

একটানা হরতালের কারণে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা একেবারে পর্যটকশূন্য হয়ে গেছে। পুরো সৈকত জুড়ে এখন ধু-ধু বালুচর। নেই পর্যটকদের কোলাহল। পর্যটন কেন্দ্রীক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চুপ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সৈকতের বালুচরে লাল কাঁকড়ার নৃত্য, নারকেল বিথীর মনোলোভা দৃশ্য, ইলিশ শিকারের নৌকাগুলো, গাড়ি ছেড়ে যাওয়া, গাড়ি এসে দাঁড়ানো কিংবা সৈকতে আছড়ে পড়া সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ উপভোগ করার যেন কেউ নেই। হরতাল-অবরোধের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওখানকার হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, হরতাল কর্মসূচিতে কুয়াকাটা পর্যটকশূন্য হয়ে গেছে। হরতালের কারণে বহু পর্যটক বুকিং ফিরিয়ে নিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমাদের লোকশানের বোঝা বইতে হচ্ছে। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসলে এ অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কোনো পর্যটক এখানে আসতে পারছেন না। তাই এখনকার হোটেল মোটেলের সিট খালি পড়ে রয়েছে।

কুয়াকাটা বেঙ্গল গেস্ট হাউসের ইনচার্জ আজিজুর রহমান টুটুল বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমাদের হোটেলে কোনো পর্যটক নেই। প্রতিবছর এ মুহূর্তে অনেক পর্যটক থাকতো। কিন্তু বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম সেন্টারের চেয়ারম্যান রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এখন সৈকতের চারদিকে শুনসান নিরবতা। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পরবে। প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটতো। এখন সকাল, বিকাল কিংবা দুপর কোনো সময়ই পর্যটকের দেখা মেলেনা।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় মণ্ডল জানান, হরতালের কারণে এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি একেবারেই নেই । তবে আমাদের পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে।

কেএইচ