বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ দুদকের উদ্দেশ্যে বেলেছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের (ধরার) আগে নিজের ঘর ঠিক করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আগে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে ।


সোমবার রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির শ্রেষ্ঠ সদস্যদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, মহাপরিচালক ড. মো. সামসুল আরিফিন।


অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন,কারণ নিজেরা ঠিক না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবেন না। দুর্নীতি দুদকসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে ঢুকে পড়েছে। রাজধানীর প্রতিটি রাস্তায় দুর্নীতি আর লুণ্ঠনের তাণ্ডব চলছে।


তিনি বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশে চরম আকার ধারণ করেছে। যে স্থানে সম্পদ সেখানেই লুণ্ঠন চলে। ক্রমান্বয়ে লুণ্ঠনের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা।


অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘পৃথিবীতে পর্বতের মধ্যে এভারেস্ট যেমন সবচেয়ে উঁচু অবস্থায় রয়েছে, দুর্নীতিতে বাংলাদেশেরও একই অবস্থা। দুর্নীতির অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। আর এ লোপাট চলতে থাকলে আমরা মুক্তি পাব না।


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমস্ত সম্পদের মধ্যে ঢাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পদ একত্রিত রয়েছে। ফলে এখানে লুণ্ঠনের তাণ্ডব আরও বেশী চলছে।


আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অবাধে দুর্নীতি চলছে। রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে, দুদক স্বাধীন ভাবে ও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। দুদকের এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে জয়ী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থানের দুর্নীতির প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হল— দুদকের নিজস্ব ওয়েবসাইটকে আরও উন্নত ও সচল করা, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে অন্যান্য সমন্বিত জেলা কার্যালয়গুলোকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করা, স্থানীয় কার্যালয়ের লোকবল বৃদ্ধি করা, স্থানীয় উন্নয়নমূলক সভায় প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ইত্যাদি।


দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগ থেকে একটি করে জেলা কমিটি এবং প্রতিটি বিভাগ থেকে তিনটি উপজেলা কমিটিকে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
একে