রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির চার ধরনের তথ্যসহ বিশদ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

তবে পাবনা জেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি সম্পাদনকে তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার কার্বন নিঃসরণে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

চুক্তির প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রোববার সংস্থার পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরণের বিদ্যুৎ কেন্দ্র তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার কার্বন নিঃসরণযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে এ ধরণের উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ব্যয়-বহুল প্রকল্প, যার জন্য কারিগরী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশকে সরবরাহকারীর ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে বিধায় জনস্বার্থে উক্ত চুক্তির প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও বিশদ তথ্য প্রকাশ করা দরকার।’

ড. জামান বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার পারমানবিক চুল্লিগুলি ব্যাপকভাবে, এমনকি খ্যাতিসম্পন্ন রাশিয়ান বিশেষজ্ঞের মতেও অনিরাপদ ও অনির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত। এছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত দুটি প্রতিষ্ঠান Rosatom ও Gazprombank এর যৌথ মালিকানাধীন Atomsroyexport কোন দুর্ঘটনায় সরবরাহকারীর দায় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য আমরা সরকার ও বাংলাদেশ পারমানবিক শক্তি কমিশনকে জনগণের অবগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি।

যেমন- ক) জনগণের জীবন ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকিসহ পরিবেশগত কোন নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরবরাহকারীর দায় নিশ্চিত করতে চুক্তিতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা; খ) অর্থায়নের শর্তাবলীসহ ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের অর্থায়ন ব্যবস্থা; গ) সরবরাহকারীর তুলনায় বাংলাদেশের জনগণের সম্ভাব্য লাভ এবং দায়ের বিবৃতি এবং সর্বোপরি ঘ) বিশ্বব্যাপী লভ্য দক্ষতা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার বিচারে এ চুক্তিটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছে কিনা।’

বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান ব্যয়ের বিষয়ে ড. জামান বলেন, ‘এ বছরের সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী উক্ত দু’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের মোট ব্যয় প্রায় চার বিলিয়ন ডলার উল্লেখিত হলেও মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় তিন গুণেরও বেশী বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার হবে। তবে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।’

এমকে