টেংরিয়া দিলগাঁও গ্রামের শতাধিক পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন ঘর-বাড়ি ছাড়া। এতে শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে এ গ্রামের নারীরা। সংসারে আয় রোজগার না থাকায় অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর দিনযাপন করছে এই অসহায় পরিবার গুলো। হয়রানি আর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নারী ও শিশুরা। দিনের বেলায় শুধু ওই গ্রামে কাঁন্না আর আহাজারী। অসহায়দের পাশে কেউ না থাকায় কাঁন্নার রোল থামছেনা। অচেনা লোককে দেখলেই মুহূর্তেই আতংক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের টেংরিয়া দিলগাঁও গ্রামে।
_1.jpg)
গত ২৬ ফেব্র“য়ারি সকালে পাশের গ্রাম লেহেম্বার কুলিক নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিরেশ চন্দ্র রায় (৩৫) মারা যান। এ ঘটনায় নিরেশের ভাই মহেন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে দিলগাঁও গ্রামের ৭জনকে আসামী করে রানীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহার ভুক্ত আসামীদের খুঁজে না পেয়ে পুলিশ গ্রামবাসীদের হয়রানী করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের হয়রানী ও গণগ্রেপ্তারের ভয়ে ওই গ্রামের পুরুষরা বাড়ি ছেড়েছে। দুলালী বেগমের স্বামী নাসিরুল ইসলাম পনের দিন ধরে পরিবার ছেড়ে লাপাত্তা হয়েছে। দুলালী কেঁদে কেঁদে বলেন,তার স্বামী পেশায় দিনমজুর। দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে তিন মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি। সে (নাসিরুল) না থাকায় শিশু সন্তানদের নিয়ে দারুন কষ্টে আছি। একই কষ্টের কথা জানালেন, মোকসেদা বেগম। তিনি বলেন, দুই ছেলে ঢাকায় লেখা পড়া করে। এক ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে এলাকার একটি স্কুলে। তার স্বামী সলিমউদ্দিনও দিনমজুর।
.jpg)
আয় রোজগার না থাকায় টাকা পাঠাতে পারছেনা মোকসেদা। গ্রামের আবুল হাসেমও স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে ফেলে বাড়ি ছেড়েছেন। তার বড় মেয়ে হুসনে আরা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। হুসনে আরা কেঁদে বলেন,বাবা না থাকায় লেখা পড়ার খরচ বন্ধ হয়েছে। এ কারণে সে আর স্কুলে যাচ্ছে না। একই অবস্থার শিকার এ গ্রামের অনেক পরিবার। স্কুল শিক্ষক শওকত আলী জানান,তার গ্রামের মসজিদে ভয়ে কেউ নামাজ পড়তে যায় না। হাট বাজারে লোক সমাগম কমে গেছে। তিনি আরও বলেন,পুরুষরা বাড়িতে না থাকায় ক্ষেত খামার নষ্ট হচ্ছে।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,ভাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান।তিনি নিরপরাধী মানুষকে হয়রানি না করতে পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।
অ্যাড. সোহরাব হোসেন প্রধান বলেন, এজাহার ভুক্ত ৭ জন আসামী আছে এবং এজাহার কারী সুনিদিষ্ট ভাবে কে কি ভাবে হত্য করেছে এটা স্পর্ষ্ট করা আছে। তবুও পুলিশ শুধু মাত্র হয়রানী করার জন্য ওই গ্রামে হানা দিচ্ছে। আইনে এ ধরণের কোন ব্যাখ্যা নেই। তিনি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেন,এটা মানবাধিকার লংঘন। স্বাধীন দেশে এটা কাম্য নয়।
মামলার বাদি মহেন্দ্র নাথ রায় চিহারুরেরও দাবি, নিরপরাধী কোন মানুষ যেন হয়রাণীর শিকার না হয়। হত্যা কান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
এ প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল থানার ওসি রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, আমরা কী কাউকে পাহারা দিয়ে বাড়িতে রাখব? এ বলে তিনি এড়িয়ে যান।
সোহেল পারভেজ





