নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েটের সহকারী অধ্যাপক এমরানা কবির হাসির এক পা কেটে ফেলা হয়েছে। এর আগে তার বাম হাতের পাঁচটি আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, গতকাল বুধবার হাসির একটি পা কেটে ফেলার পর হাসির অবস্থা এখন অনেক ভালো।

হাসিকে বাংলাদেশে কখন আনা হবে জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় আহত দুজন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাতে দেশে না আনা হয় তার জন্য বলা হয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি বাড়িতে ফিরবে।

গত ১২ মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বিধ্বস্ত হয় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।

এতে বিমানটিতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ যাত্রী নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি রয়েছেন। এতে আহত হন ১০ বাংলাদেশি।

দুর্ঘটনায় পড়া বাংলাদেশি যাত্রী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান ও রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসি ছিলেন স্বামী-স্ত্রী।

এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই রাকিবুল মারা যান। অন্যদিকে হাসির ফুসফুসসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

পরে পরিবার ও রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘রিওসা’র আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ মার্চ শিক্ষক হাসিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত আরেক যাত্রী মো. রেজওয়ানুল হককেও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রিওসার সহদফতর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, হাসিকে সিঙ্গাপুর নেয়ার পর এখন তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভালো।

তিনি জানান, হাসির এক পা কেটে ফেলা হয়েছে। এর আগে তার বাম হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি এখনও হাত ভালোভাবে নাড়াতে পারছেন না। তার ডানহাতও অনেকটা ভেঙে গেছে।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মি. চং এর বরাত দিয়ে মনির হোসেন বলেন, ডান হাতের আঘাতটা অনেক বেশি। অপারেশনের মাধ্যমে এর ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন। যদি তা না করা হয় তাহলে চিরদিনের জন্য হাতটা তিনি হারাতে পারেন।

মনির হোসেন আরও বলেন, সবদিক বিবেচনা করলে হাসি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। তিনি ভালোভাবে নড়াচড়াও করতে পারছেন না।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২৫ এপ্রিল হাসিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে হস্তান্তর করবে বলে মৌখিকভাবে বলেছিল।

তবে হাসির সর্বশেষ অবস্থা বিশ্লেষণ করে তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বলে জানান মনির হোসেন।

এসএম